বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, দেশের অর্থনীতি ও শিল্পায়নের বিকাশের সঙ্গে জ্বালানির চাহিদাও ক্রমাগত বাড়ছে। নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও টেকসই জ্বালানি নিশ্চিত করতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে জয়নগরে স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্টে গতকাল শুক্রবার এক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।
মাহবুব আনাম বলেন, গত ২৮ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে আগামী আগস্টের শেষ দিকে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসে দ্বিতীয় ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি সফল পারমাণবিক কর্মসূচির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো, জনগণের আস্থা। পারমাণবিক শক্তির গুরুত্ব, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে নিরবচ্ছিন্ন সম্পৃক্ততা, উন্মুক্ত যোগাযোগ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সহায়তায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বাপশক) এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘নিউক্লিয়ার এনার্জি: কৌশল, বাস্তবতা ও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এ গোলটেবিল বৈঠক আজ শনিবার শেষ হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।
সেমিনারে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মঈনুল ইসলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন আইএইএর নিউক্লিয়ার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট সেকশনের টেকনিক্যাল লিড মেহমেত জেইহান।
অনুষ্ঠানে পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব ম-ল, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সেলিম রেজা হাবিব ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবসহ রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
