দুদক কমিশনার নিয়োগে শিগগির সার্চ কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের জন্য সার্চ কমিটি গঠনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, প্রধান বিচারপতি গতকাল তার প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছেন।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেকেই মনে করেছেন সরকার আন্তরিক ছিল না, কিন্তু বাস্তবে তা নয়। সরকার চিঠি দিয়েছিল যে, একটি সার্চ কমিটি ও দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা হবে। কিন্তু আমরা সহযোগিতা পাইনি। গতকাল কেবল সই হয়েছে।
গত ৩ মার্চ দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদত্যাগ করার পর থেকে সংস্থাটি নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটি হচ্ছে মধ্যবর্তী ব্যবস্থা। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন যখন সংসদে আনা হবে, তখন ওই আইনের অধীনে আরও শক্তিশালী কমিশন গঠন করা হবে। তখন আমরা আলোচনায় অংশ নিতে পারবো ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করা হবে। তবে এর মধ্যে কমিশনকে কার্যকর করতে বিদ্যমান আইনের অধীনে সার্চ কমিটির মাধ্যমে একটি কমিশন গঠন করতে হবে।
এর আগে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা অন্তর্বর্তী সরকারের পাস করা দুদক অধ্যাদেশ অনুমোদন না করায় সরকারের সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, দুদক আইন সংশোধনের অধ্যাদেশটি অনুমোদন করা হয়নি। সরকারের উদ্দেশ্য স্পষ্ট—দুদককে শক্তিশালী না করে এটি নখদন্তহীন রাখার সংস্কৃতি বজায় রাখা হচ্ছে।
‘এতে বোঝা যায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকার কতটা অসৎ। আমরা বুঝি কেন সরকারগুলো শক্তিশালী দুদককে ভয় পায়। কারণ এটি তাদের জবাবদিহির আওতায় আনবে’, বলেন তিনি।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতি ও আমলাতন্ত্র দুর্নীতির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যুক্ত দুটি পেশা। সেখানে রাজনীতিবিদরা শীর্ষে ও এরপরই আমলারা।
‘আমি সত্যিই অবাক হই, যখন কেউ রাজনীতিকে পেশা হিসেবে তালিকাভুক্ত করে, কারণ এখানে রাজনীতিবিদরা বেতন নেন বা রাজনীতির মাধ্যমেই অর্থ উপার্জন করেন—এটা সম্ভবত বাংলাদেশের মতো দেশে ছাড়া আর কোথাও সম্ভব নয়,’ তিনি যোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ অতীতে টানা পাঁচ বছর বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে স্থান পেয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ‘ছাগল কেলেঙ্কারি’, ‘বালিশকাণ্ড’ মামলা, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে অনিয়ম এবং এক পিয়নের ৪০০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের ঘটনা।
রুমিন ফারহানা ব্যাংক ঋণ, ভুয়া কোম্পানি, খেলাপি ঋণ, অতিরিক্ত ও কম ইনভয়েসিং, হুন্ডি লেনদেন, ভুয়া রপ্তানি বিল এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগসহ বড় আর্থিক অনিয়মের কথা উল্লেখ করেন।
এছাড়া বড় প্রকল্প, নিয়োগ, পদোন্নতি, ক্রয় প্রক্রিয়া ও স্বাস্থ্য খাতে সিন্ডিকেটের অভিযোগ, বিশেষ করে ‘মিঠু সিন্ডিকেট’র কথাও তিনি বলেন।
এই সংসদ সদস্য বলেন, এই কারণেই আমাদের প্রত্যাশা ছিল ৫ আগস্ট পর নতুন বাংলাদেশে আমরা দুদককে একটি নখদন্তহীন বাঘ থেকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করব।
