বিশ্বজুড়ে মাদক সেবনের হার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয় (ইউএনওডিসি) তাদের সর্বশেষ বাৎসরিক প্রতিবেদনে নতুন নতুন মাদকের বিস্তার নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
আজ শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।
২০২৬ সালের বিশ্ব মাদক প্রতিবেদনে ইউএনওডিসি জানায়, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ৩৩ কোটি ১০ লাখ মানুষ অন্তত একবার মাদক সেবন করেছেন।
এই সংখ্যাটি ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী বৈশ্বিক জনগোষ্ঠীর ছয় দশমিক দুই শতাংশ। ২০১৪ সালে এটি পাঁচ দশমিক দুই শতাংশ ছিল।
২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ গাঁজা সেবন করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী অবস্থানগুলোতে আছে আফিম, অ্যাম্ফেটামিন, কোকেন ও একস্ট্যাসি।
জাতিসংঘের সংস্থাটির মতে, হেরোইনের বিকল্প হিসেবে ফেন্টানিল, নিটাজিন ও অরফিনের মতো সিনথেটিক মাদকের বিস্তার অনেক বেড়েছে।
ইউএনওডিসির প্রধান মনিকা জুমা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা বাজারে নতুন ধরনের মাদকের নজিরবিহীন বিস্তার চিহ্নিত করেছি। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এগুলো আগের যেকোনো মাদকের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষতিকারক।’
সংস্থাটি জানায়, মাদক উৎপাদনকারীরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজর এড়াতে নতুন নতুন সিনথেটিক মাদক তৈরি করে চলেছেন।
প্রতিবেদন মতে, ২০২৪ সালে ২০০০ সালের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি মাদকের ধরন বাজারে প্রচলিত।
ইউএনওডিসি জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বাজারে ৭৫৫ ধরনের সাইকোঅ্যাক্টিভ উপকরণযুক্ত নতুন মাদক চিহ্নিত করা হয়। তাদের মধ্যে ১১৮টি প্রথমবারের মতো মানব-মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টিকারী মাদক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
২০২২ সালে আফগানিস্তানের তালেবান শাসক পপি চাষের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে আফিম ও হেরোইন সরবরাহ বড় আকারে প্রভাবিত হয়েছে।
মূলত এ কারণেই মাদক পাচারকারীরা ফেন্টানিলের মতো বিকল্প সিনথেটিক মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।
ইউএনওডিসি জানায়, ‘উদ্ভিদ থেকে আহরণ করা মাদকের পরিবর্তে দ্রুত গবেষণাগারে তৈরি সিনথেটিক মাদকের দিকে ঝুঁকছেন উৎপাদক ও ব্যবহারকারীরা। এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে।’
ক্রিস্টাল মেথ নামে পরিচিত মেথাম্ফেটামাইন মাদকের নতুন নতুন বাজারের উত্থানের বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মিয়ানমার, উত্তর আমেরিকা, পশ্চিম ও দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার কথা আলাদা করে বলা হয়।
অনেক দেশেই এখন গাঁজা সেবনকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে এই মাদকের ব্যবহারও বাড়ছে।
২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গাঁজা সেবনকারীর সংখ্যা ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে পাঁচ শতাংশই এই মাদকে আসক্ত।
ওই দশকে গাঁজার উৎপাদন চার গুণ বেড়েছে।
ইউরোপ, আমেরিকা ও ওশেনিয়ার পাশাপাশি আফ্রিকা ও এশিয়ার মতো নতুন বাজারগুলোতে এই মাদক পৌঁছে দিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে পাচারকারীরা।
