চারবারের চেষ্টায় এখন পর্যন্ত একবারও বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে পারেনি জাপান। এবার গ্রুপ পর্বে ছন্দময় ফুটবল খেললেও রাউন্ড অব ৩২ এই প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ইতিহাস, পরিসংখ্যান সবকিছু ব্রাজিলের পক্ষে থাকলেও ব্রাজিলেরই কিংবদন্তি ফুটবলার জিকো বলছেন, ‘সত্যিকারের ফুটবল’ খেলা এই জাপান দল ব্রাজিলকে হারিয়ে দিলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
শৈল্পিক ফুটবলের জন্য ‘সাদা পেলে’ নামে খ্যাত জিকো ব্রাজিলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে বিবেচিত। সেই জিকোর কণ্ঠেই জাপান দলের জন্য প্রশংসা ঝরে পড়েছে, ‘অবশ্যই আমি ব্রাজিলকে সমর্থন করব। তবে জাপানও জিততে পারে। এই জাপান দল সত্যিকারের ফুটবল খেলাটাই খেলে। দারুণ উপভোগ্য একটি ম্যাচ হবে’।
প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ব্রাজিল হলেও জাপানের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না জিকো, ‘জাপান যেকোনো দলকে মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। গত কয়েক বছরে এই দলটাই স্পেন, জার্মানি, ইংল্যান্ড এমনকি ব্রাজিলকেও হারিয়েছে। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, জাপান প্রস্তুতই থাকবে’।
২০০২ থেকে ২০০৬ এই চার বছর জাপানের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন জিকো। তার অধীনেই ২০০৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়েছিল ‘ব্লু সামুরাই’রা, যে ম্যাচে জাপান হেরেছিল ৪-১ গোলে। জাপানের ফুটবলের অগ্রগতি তাই অনেক আগে থেকেই দেখছেন জিকো। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বলছেন, আগের জাপানের চেয়ে এই জাপানের অনেক পার্থক্য, ‘অবশ্যই তাদের ট্যাকটিক্যাল উন্নতি হয়েছে। তবে জাপানের আসল সমস্যাটা সবসময়ই ছিল মানসিক। এখন তারা জানে কীভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লড়াই করতে হয়, ম্যাচে পিছিয়ে পড়লেও কীভাবে ফেরত আসতে হয় সেটা তারা শিখে গেছে’।
এই বিশ্বকাপের অন্যতম ডার্ক হর্স মানা হচ্ছে জাপানকে। সবশেষ ১০ ম্যাচে এই দলটি কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে হারেনি। এর মধ্যে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়, এই বিশ্বকাপের শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসকে ২-২ গোলে আটকে দেয়া এবং তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ৪-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিতভাবেই আত্মবিশ্বাস জোগাবে এশিয়ান পরাশক্তি দেশটিকে।
বিশ্বকাপে কখনো ব্রাজিলকে হারাতে না পারলেও এই ম্যাচে জাপান নামবে সুখস্মৃতি নিয়েই। গত বছর টোকিওতে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়েছিল জাপান। ফুটবল পরাশক্তির বিপক্ষে এটিই জাপানের প্রথম জয়। এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে সেটির পুনরাবৃত্তি তারা করতে পারে কি না, সেই অপেক্ষাতেই থাকবে জাপান সমর্থকেরা।
