গাজীপুরে নারী শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

গাজীপুরের শ্রীপুরে অসুস্থ থাকার পরও ছুটি না পেয়ে লিজা বেগম নামের এক পোশাকশ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফের প্রতিবাদ বিক্ষোভে নেমেছেন একদল শ্রমিক। জড়িতদের বিচার ও নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে আজ শনিবার একটি আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার শ্রমিকের মৃত্যুর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও একাধিক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া লিজা বেগম (৩৫) পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হুগলাবানিয়া গ্রামের আশরাফ আলীর মেয়ে। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার কড়ইতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে টেপিরবাড়ী এলাকার কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডে সেলাই অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।

লিজা বেগমের সহকর্মীদের অভিযোগ, অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তাকে ছুটি না দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। রাত ৩টার দিকে তিনি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে আল-হেরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তার মৃত্যুর কথা জানান।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতায় লিজা বেগমের মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের মালিক আবদুস সালামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে টেপিরবাড়ী এলাকায় কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড কারখানায় লিজা বেগমের জন্য মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ সময় একই কোম্পানির ব্লু প্ল্যানেট নিটওয়্যার লিমিটেডের কয়েক শ শ্রমিক সেখানে উপস্থিত হয়ে বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা জানান, মিলাদ মাহফিল চলাকালে মুলাইদ এলাকার ব্লু প্ল্যানেট নিটওয়্যার লিমিটেডের ৪০০ থেকে ৫০০ শ্রমিক কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের কারখানার গেটে এসে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ভাঙচুরের ঘটনায় তিন মামলা

লিজা বেগমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও চারটি পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনায় তিনটি পৃথক মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ১ হাজার ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ভাঙচুরের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনটি কারখানার ব্যবস্থাপকেরা (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় পৃথক এই তিনটি মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, লিজা বেগমের মৃত্যুর পর একটি পক্ষ সাধারণ শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল বের করে। পরে তারা মাওনা চৌরাস্তা এলাকার ইয়াসমিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, ট্রিপল অ্যাপারেল লিমিটেড, এমএইচসি অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেড এবং সিআরসি অ্যাপারেল কারখানায় ভাঙচুর চালায়।

Related Articles

Latest Posts