কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতায় দুধকুমার নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি অংশের কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে ওই অংশ দিয়ে পানি ঢুকে প্লাবিত হচ্ছে লোকালয়। ইতোমধ্যে দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েকশ পরিবার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দুধকুমার নদের ডান তীরে ৩ হাজার ১০০ মিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প নেয় পাউবো। গত বছর এই বাঁধের ২ হাজার ৮০০ মিটারের নির্মাণকাজ শেষ হয়।
তবে আদর্শপাড়া এলাকায় বাঁধের ৩০০ মিটারের কাজ জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় শুরু করা যায়নি। ফলে ওই অংশটি অরক্ষিত অবস্থায় রয়ে গেছে।
বাঁধটি পুরোপুরি নির্মাণ না হওয়ায় ফসলি জমি ও বসতবাড়ি প্লাবিত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ওই এলাকার কৃষক আব্দুল জব্বার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বাঁধ নির্মাণ শেষ হলে দুধকুমারের পানি লোকালয়ে ঢুকতে পারত না। এখন আমাদের ঘরের ভেতরেই পানি ঢুকে পড়ছে। বাঁধের পাশের জমির মালিকদের কারণে কয়েকশ কৃষক আজ বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, ‘আগেও এই অংশে বাঁধ ছিল, তবে সেটি ছিল সরু ও নিচু। পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধটি আরও উঁচু ও প্রশস্ত করতে চেয়েছিল। এ বিষয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকও করেছে তারা। কিন্তু কয়েকজনের বাধার কারণে কাজ বন্ধ হয়ে আছে।’
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ঠিকাদার যখনই ওই ৩০০ মিটারের নির্মাণকাজ করতে গেছে তখনই বাঁধের পাশের জমির মালিকানা দাবি করা কয়েকজন ব্যক্তি বাধা দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘৩০০ মিটারের মধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিটার অংশ তুলনামূলকভাবে নিচু। ফলে ওই অংশ দিয়ে দুধকুমার নদের পানি লোকালয়ে ঢুকছে।’
অরক্ষিত বাঁধের কারণে ওই এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরেন বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রনিও।
তিনি বলেন, ‘বাঁধের ওই অংশ দিয়ে পানি ঢুকে বামটারী, তেলানীকুটি, ধনীটারী, সেনপাড়া ও মিয়াপাড়া গ্রামের কয়েকশ পরিবার ক্ষতির মুখে পড়েছে।’
জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা প্রসঙ্গে রনি বলেন, ‘এলাকার স্বার্থে জমি অধিগ্রহণের অগ্রিম টাকা ছাড়াই কাজ করতে দিয়েছেন বেশিরভাগ জমির মালিক। কিন্তু ৩০০ মিটার অংশের কয়েকজন মালিক আগেই টাকা দাবি করেন। অগ্রিম টাকা না পাওয়ায় তারা জটিলতা তৈরি করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও জমির মালিকানা দাবিদারদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হইনি।’
তবে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘এখনো কোন জমির মালিককে টাকা দেওয়া হয়নি। যেহেতু ৩০০ মিটার অংশে জটিলতা দেখা দিয়েছে সেজন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা।’
আইনগত সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করে অবশিষ্ট ৩০০ মিটার বাঁধের কাজ শেষ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
আইনগতসব ব্যবস্থা সম্পন্ন করে অবশিষ্ট ৩০০মিটার বাঁধের কাজ শেষ করাহবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
এদিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার থেকেই দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টায় দুধকুমারের পানি বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
