গ্রুপ পর্বে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি বলেছিলেন, জীবনের সেরা ম্যাচটি খেলেছেন তিনি। আজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচকেও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। একের পর এক অতিমানবীয় গোল ঠেকিয়ে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় জয়ের নায়ক হওয়ার মঞ্চ প্রস্তুত ছিল এমপাসির সামনে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এমপাসিকে ট্র্যাজিক হিরো বানিয়ে ম্যাচটা নিজের করে নিয়েছেন হ্যারি কেইন। তাঁর এগারো মিনিটের ঝড়ে ডিআর কঙ্গোকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে পৌঁছে গেছে ইংল্যান্ড।
অথচ ম্যাচের ৭৫ মিনিট পর্যন্ত মনে হচ্ছিল আরও একটি অঘটনের সাক্ষী হতে চলেছেন দর্শকেরা। একের পর এক আক্রমণ করেও কিছুতেই যখন এমপাসির দেয়াল ভাঙতে পারছিল না ইংল্যান্ড, তখনই ত্রাতা হিসেবে এসেছেন অধিনায়ক কেইন। ৭৫ ও ৮৬ মিনিটে দারুণ দুটি গোল করে ইংল্যান্ড সমর্থকদের স্বস্তি এনে দিয়েছেন ইংলিশ তারকা।
অথচ ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল ডিআর কঙ্গোর, আরও নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে এমপাসির। পুরো ম্যাচ কম করে হলেও পাঁচটি নিশ্চিত গোল ফিরিয়ে দিয়েছেন। এর মধ্যে জুড বেলিংহামের একার শটই ছিল তিনটি। এমপাসি অমন চীনের মহাপ্রাচীর হয়ে না দাঁড়ালে হ্যাটট্রিক নিয়েও মাঠ ছাড়তে পারেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
এর আগে ম্যাচের মাত্র ৭ মিনিটের মাথায় প্রতিআক্রমণ থেকে গোল হজম করে বসে ইংল্যান্ড। অধিনায়ক এমবেম্বা বল বাড়িয়েছিলেন ব্রায়ান সিপেঙ্গাকে। ডি বক্সের বাঁ দিক থেকে জোরালো শটে গ্যালারি স্তব্ধ করে দেন জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোল পাওয়া সিপেঙ্গা।
গোল খেয়েই ম্যাচে ফেরার তুমুল চেষ্টা করেছে ইংল্যান্ড। কিন্তু বারবার আটকে গেছে এমপাসির দেয়ালে। ৩০ মিনিটে একদম অরক্ষিত অবস্থা থেকে বেশ ভালো হেড করেছিলেন বেলিংহাম। আটকেছেন সেই এমপাসি। এরপর চার মিনিট পর মার্কাস রাশফোর্ডের শট গোললাইন থেকে ব্লক করেন কঙ্গোর এক ডিফেন্ডার।
তবে ইংল্যান্ডের মুহুর্মুহু আক্রমণের মাঝেই দ্বিতীয়বারের মতো এগিয়ে যেতে পারত ডিআর কঙ্গো। দুই ইংলিশ ডিফেন্ডার এজরি কনসা ও মার্ক গেহির সমন্বয়হীনতায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন ইয়োয়ান উইসা। জর্ডান পিকফোর্ডকে ফাঁকি দিতে পারলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে পোস্টে লাগায় দ্বিতীয় গোল পাওয়া হয়নি ডিআর কঙ্গোর।
তবে প্রথমার্ধেই পেনাল্টি নিয়ে দুটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দেখেছে এই ম্যাচ, দুটিই গেছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। প্রথমবার ডি-বক্সের ভেতর হ্যান্ডবলের জোরালো আবেদন করেছিলেন ইংলিশ ফুটবলাররা। রিপ্লেতে বল হাতে লাগার দৃশ্য দেখা গেলেও পেনাল্টি পায়নি থ্রি লায়ন্সরা। আর ৪৪ মিনিটে এমপাসির সাথে সংঘর্ষে বক্সে পড়ে যান কেইন। রেফারি সেটিকে পেনাল্টি না দিয়ে উল্টো কেইনের বিরুদ্ধে ডাইভ দেয়ার অভিযোগে ফাউল দেন।
প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আবারও বেলিংহামকে হতাশ করেন এমপাসি। একই রকম হেড করেছিলেন, দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় সেটিকেও ঠেকিয়ে দেন কঙ্গো কিপার। ৫৪ মিনিটে বেলিংহামকে তৃতীয়বারের মতো নিরাশ হতে হয় এমপাসির কাছে। শেষ পর্যন্ত এমপাসিকে হার মানতে হয় কেইনের কাছে। অ্যান্থনি গর্ডনের উঁচু করে বাড়ানো বলে হেড করে দলকে সমতায় ফেরান সুযোগসন্ধানী কেইন।
তবে কেইনের জয়সূচক গোলটি ছিল দেখার মতো। বক্সের ভেতরে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে বোকা বানিয়ে যেভাবে গোলটি করেছেন, নিশ্চিতভাবেই এবারের আসরের সেরা গোলের তালিকায় থাকবে এটি।
এই গোলের মাধ্যমে কিংবদন্তি পেলেকে ছাড়িয়ে গেছেন কেইন। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড অধিনায়কের গোল এখন ১৩ টি, যার মধ্যে ৫টি এবারের বিশ্বকাপে।
