বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করা সেই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের পর অধিনায়ক ইউরি টিলেমান্সকে প্রশংসায় ভাসালেন বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়া। চরম চাপের মুহূর্তেও টিলেমান্স যে স্থিরতা ও মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত বেলজিয়ামকে নাটকীয় জয় এনে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সিয়াটলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল সেনেগাল। তখন মনে হচ্ছিল, আফ্রিকার দলটিই শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করতে যাচ্ছে। কিন্তু মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে রোমেলু লুকাকু ও ইউরি টিলেমান্সের গোলে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। এরপর অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে, ১২৫তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন টিলেমান্স।
তবে সেই পেনাল্টি নেওয়ার আগে সহজ পরিস্থিতিতে ছিলেন না বেলজিয়াম অধিনায়ক। সেনেগালের খেলোয়াড়রা পেনাল্টির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে স্পটকিক নেওয়ার জায়গা ঘিরে ধরেছিলেন। দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধও ছিল। কিন্তু সব চাপ সামলে অবিশ্বাস্য শান্ত মাথায় বল জালে পাঠান অ্যাস্টন ভিলার এই মিডফিল্ডার।
ম্যাচ শেষে গার্সিয়া বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইউরি টিলেমান্স তার স্থিরতা এবং গুণমানের প্রমাণ দিয়েছে। আবারও সে দেখিয়েছে, এমন কঠিন মুহূর্তে পেনাল্টি নেওয়ার মতো অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। কারণ, এমন পরিস্থিতিতে গোল করা মোটেও সহজ নয়।’
‘২-২ অবস্থায়, ১২০ মিনিট কিংবা তারও পরে, যখন সবাই ক্লান্ত, তখন ইউরি শারীরিকভাবেও ক্লান্ত ছিল। সেই অবস্থায় গিয়ে পেনাল্টি থেকে গোল করা খুবই কঠিন কাজ। কিন্তু সে সেটা করেছে। তার সেই গোলের কারণেই আমরা শেষ ষোলোয় উঠেছি। আমাদের অধিনায়ককে অভিনন্দন। আমার মনে হয়, সে আজ অসাধারণ খেলেছে,’ যোগ করেন তিনি।
এমন নাটকীয় জয় পুরো দলকে আরও ঐক্যবদ্ধ করবে বিশ্বাস কোচের, ‘২-০ পিছিয়ে থেকেও ২-২ সমতায় ফেরা দলকে ভীষণ আত্মবিশ্বাস দেয়। আর এখন আমাদের যাত্রা চলতেই থাকবে। এ ধরনের পরিস্থিতি একটি দলকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। খেলোয়াড়রা বুঝতে পারে, ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত, শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। আজ আমরা সেটাই দেখিয়েছি।’
শেষ ষোলো নিশ্চিত হওয়ায় এখন সিয়াটলেই থেকে যাবে বেলজিয়াম। কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র।
