ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের শেষ বত্রিশের ম্যাচটি যেন বিশ্বকাপে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ‘শেষ অধ্যায়’ না হয়, তা নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কোচ রবার্তো মার্তিনেজ।
ডিআর কঙ্গো ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে ড্রয়ের মাঝে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ‘কে’ গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে উঠেছে পর্তুগাল।
বিশ্বকাপে নিজের নবম নকআউট ম্যাচ খেলতে নামছেন ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা রোনালদো, যদিও আগের আট ম্যাচের একটিতেও জালের দেখা পাননি তিনি। সব মিলিয়ে ফুটবলের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টে এটি হতে যাচ্ছে তার ২৫তম ম্যাচ।
তবে কেবল তিনিই এমন খেলোয়াড় নন, যার সামনে সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার শঙ্কা রয়েছে। এই ম্যাচের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে বিদায় নিতে পারেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচও।
২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে একসঙ্গে খেলা এই দুই তারকা এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের আগের তিনটি ম্যাচেই মূল একাদশে ছিলেন। তবে মার্তিনেজ নিশ্চিত করতে চান যেন— এই টুর্নামেন্টে রোনালদোর যাত্রাই অব্যাহত থাকে।
টরন্টোতে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে অনুষ্ঠেয় ম্যাচের আগে পর্তুগালের কোচ বলেন, ‘আমরা এমন খেলোয়াড়দের নিয়ে কথা বলছি, যারা জনমতের ঊর্ধ্বে। ফুটবলে তাদের দীর্ঘায়ু তাদেরকে বিশেষ করে তুলেছে। আপনি মদ্রিচের কথা বলছেন, যার বয়স এখন ৪০ পার হয়েছে। তবুও তিনি প্রচুর সংখ্যক ম্যাচ খেলে চলেছেন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই রয়েছেন।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের অধিনায়কের (রোনালদো) ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যারা বয়স নিয়ে কথা বলেন— তাদের বলি, বয়স কেবলই একটি সংখ্যা। আসল বিষয় হলো তারা কী করেন এবং ড্রেসিংরুমে কী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তারা আইকন— এমন দৃষ্টান্ত থাকাটা জরুরি। আশা করি, এটি রোনালদোর শেষ অধ্যায় নয়।’
নিজেদের শেষ দুটি বড় টুর্নামেন্টের প্রতিটিতেই প্রথম নকআউট রাউন্ড পার করেছে পর্তুগাল। এছাড়া, এই ম্যাচে মাঠে নামার আগে বিশ্বকাপে টানা তিন ম্যাচে অপরাজিত (১ জয় ও ২ ড্র) রয়েছে তারা।
এর আগে বিশ্বকাপের এক আসরে চার বা তার বেশি ম্যাচে অপরাজিত থাকার কীর্তি দলটি মাত্র দুবার গড়তে পেরেছিল—১৯৬৬ সালে (চারটি) ও ২০০৬ সালে (পাঁচটি)। ১৯৬৬ সালে তারা তৃতীয় ও ২০০৬ সালে চতুর্থ স্থান পেয়েছিল।
এখন পর্যন্ত নিজেদের পুরোপুরি গুছিয়ে নিতে বা সেরা ছন্দে ফিরতে পর্তুগালকে বেশ ধুঁকতে দেখা গেছে। তবে নকআউট পর্বের শুরুতে তার দল নিজেদের সেরা অবস্থানেই থাকবে বলে আত্মবিশ্বাসী মার্তিনেজ।
পর্তুগালের কোচ বলেন, ‘আমাদের মাঝে যে একতা, প্রতিভা ও প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তার সুবাদে দলটি খুবই শক্তিশালী। আমি আত্মবিশ্বাসী। আমরা (গ্রুপ পর্বে) যে তিনটি ম্যাচ খেলেছি, সেগুলোই ছিল আমাদের প্রস্তুতি। সেখানে কিছু কঠিন মুহূর্ত ছিল, যেখানে আমরা নিজেদের দৃঢ়তা ও তীব্রতা দেখিয়েছি।’
