জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে: নাহিদ ইসলাম

জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, কারা বোমা হামলা চালিয়েছে বা কীভাবে ঘটনা ঘটেছে, তা আমরা জানি না। তবে এ ঘটনার দায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।

সাভারে এনসিপি আয়োজিত ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির মঞ্চে ককটেল বিস্ফোরণের পর সাভার মডেল থানার সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের কাছে জবাবদিহি চাইব, কেন তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলো, কী ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল ও কীভাবে তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বোমা হামলা করার সুযোগ পেল সন্ত্রাসীরা।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সমাবেশ শুরু হওয়ার পরপরই সেখানে বিদ্যুৎ চলে যায়। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, প্রশাসনিক সহযোগিতায় এই বোমা হামলা হয়েছে। আমরা এখন সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান করছি। শান্তিপূর্ণভাবে এখানেই অবস্থান কর্মসূচি পালন করব।’

‘পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের কাছে জানতে চাইব, একটি রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিকভাবে কর্মসূচি পালনের অধিকার রয়েছে। আর সেই কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্ব,’ যোগ করেন তিনি।

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা জানি, এ এলাকায় কারা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসনের সঙ্গে জড়িত। কারা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত, সেটিও আমরা জানি।’

‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে জনগণের পক্ষে কথা বলতে চাই। জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। তারা ভেবেছিল বড় ধরনের হামলা চালিয়ে, ভয় দেখিয়ে ও আহত করে আমাদের আন্দোলন ও পদযাত্রা থামিয়ে দেবে। কিন্তু তা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আমাদের জীবন গেলে রাজপথেই যাবে।’

নাহিদ বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আমরা রাজপথে জীবন দিতে প্রস্তুত ছিলাম, এখনো আছি। এই সাভারেই আমাদের কয়েকশ ভাই আহত হয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, আমাদের বোনেরাও হামলার শিকার হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজও আমাদের এক ভাই আহত হয়েছেন, দুজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে আছেন। তাদের ওপর হামলার বিচার আমরা চাই। ওসমান হাদি ভাইকে হত্যা করা হয়েছে, কিন্তু এখনো সেই হত্যার বিচার নিশ্চিত হয়নি।’

‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ কী আইনশৃঙ্খলা ও কী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়, এটা আজ বাংলাদেশের জনগণ দেখেছে।’

তিনি বলেন, আগামীকাল থেকে যেসব জেলা ও উপজেলায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি রয়েছে, সেগুলো অবশ্যই চলবে। পাঁচজন থাকলেও আমরা পদযাত্রা করব। পাঁচজন নিয়েই জনগণের পক্ষে কথা বলব। আমরা জানি, এই পাঁচজনই একসময় পাঁচ হাজার হবে, আর পাঁচ হাজার থেকে পাঁচ লাখ মানুষ হতে বেশি সময় লাগে না। আমাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। সারা বাংলাদেশের মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে।

বক্তব্য শেষে রাত ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মী ও সাভারের স্থানীয় নেতাকর্মীরা পার্শ্ববর্তী সাভার মডেল থানা ঘেরাও করেন। নাহিদ ইসলামসহ কয়েকজন নেতাকর্মী থানার মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে দীর্ঘ এক ঘণ্টা ভেতরে অবস্থান করেন। এসময় বাইরে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন শ্লোগান দিচ্ছিলেন। থানার মূলফটক বন্ধ ছিল। পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা শেষে রাত ১১টার দিকে সাংবাদিকদের আবার কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা মানেই পুলিশের ব্যর্থতা আছে। আমরা মনে করছি, আইনশৃঙ্খলাজনিত বিষয় ছাড়াও এখানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। পুলিশকে যদি দলীয়করণ করা হয়, তাহলে পুলিশ এ ধরনের ঘটনায় আসলে আমাদের সুরক্ষা দিতে পারবে না। কারণ তখন পুলিশ রাজনৈতিক নির্দেশে কাজ করবে।’

‘পুলিশ যদি গ্রেপ্তার করতে পারে, তাহলে আমরা বুঝব যে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। পুলিশ বলছে তাদের ইচ্ছে ছিল, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। এখন পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারে কি না, সেটার ওপরই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি পুলিশ উপস্থিত ছিল, কিন্তু বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর তাদের কোনো সক্রিয়তা দেখা যায়নি। বোমা হামলার পর কিছু পুলিশ এসে আমাদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা করেছে, আবার কিছু পুলিশ চলে গেছে। তারা বলছে চেষ্টা চলছে। এখন আমরা দেখতে চাই, শুধু কথায় নয়, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা এবং সাভার এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তারা সেই চেষ্টা প্রমাণ করে।’

নাহিদ ইসলাম জানান, তিনিসহ এনসিপির নেতারা পুলিশের কাছে এ ঘটনার জবাবদিহি চেয়েছেন। পুলিশ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে স্বীকার করেছে এবং এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে।

এ ঘটনায় এনসিপির সাভার উপজেলা শাখার সদস্যসচিব সালামত উল্লাহ রনি বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করবেন বলেন জানান তিনি।

জানতে চাইলে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাস্থলে আমরা কাজ করছি।’

Related Articles

Latest Posts