যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে চলতি বছরে বাংলাদেশে নির্ধারিত এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে কাতারএনার্জি।
অন্যদিকে এই ঘাটতি মোকাবিলায় স্পট মার্কেট থেকে বেশি এলএনজি কেনা এবং অন্যান্য সরবরাহকারী দেশের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে চুক্তির বিকল্প বিবেচনা করছে বাংলাদেশ।
পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে গতকাল সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
আবদুল মান্নান রয়টার্সকে বলেন, এসব সমস্যার মূল কারণ যুদ্ধ।
তিনি বলেন, সম্ভাব্য ঘাটতি পূরণে আমরা বিকল্প উৎস খুঁজছি। এর মধ্যে রয়েছে স্পট মার্কেট থেকে বেশি এলএনজি কেনা এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার চুক্তি। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যে বিকল্পটি বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে সুবিধাজনক হবে, সেটিই গ্রহণ করা হবে।
বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় বৃহৎ এলএনজি উৎপাদনকারী দেশ কাতার। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এলএনজি সরবরাহকারীও দেশটি। গত বছর বাংলাদেশ প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি আমদানি করে, যার মধ্যে প্রায় ৪১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনই এসেছে কাতার থেকে।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার সঙ্গে কাতারএনার্জির দুটি দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি রয়েছে। এর একটি বছরে ২৫ লাখ মেট্রিক টন এবং অন্যটি ১৮ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি সরবরাহের।
আবদুল মান্নান জানান, নির্ধারিত সরবরাহ কমানো হলেও কাতার যতটা সম্ভব এলএনজি সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি কাতারএনার্জি।
যুদ্ধের প্রভাব
বিশ্লেষণধর্মী তথ্যপ্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে চলতি বছরে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে বাংলাদেশ ১৯টি এলএনজি কার্গো পেয়েছিল।
তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কাতারের রাস লাফান রপ্তানি টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশে আর কোনো এলএনজি কার্গো পৌঁছেনি। ফলে দেশের চাহিদা মেটাতে স্পট মার্কেট থেকে বিকল্প সরবরাহ সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে বাংলাদেশ স্পট মার্কেট থেকে ৩৫টি এলএনজি কার্গো আমদানি করেছে।
হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় অল্পসংখ্যক খালি এলএনজি ট্যাংকারই উপসাগরে প্রবেশ করে গ্যাস বোঝাই করে ফিরে আসতে পেরেছে। যুদ্ধ শুরুর পর রাস লাফান থেকে অন্তত ১৪টি এলএনজি কার্গো হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করলেও সেগুলোর কোনোটিই বাংলাদেশে আসেনি বলে জানিয়েছে ক্লেপলার।
বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগই সাধারণ সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। তাই এ নৌপথে অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।
