নকআউটের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ পরীক্ষা নিয়েছে নবাগত কেপ ভার্দে। পুরো টুর্নামেন্টে উড়ন্ত ফর্মে থাকা ফ্রান্স প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এক গোলের কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে, পর্তুগালকে হারাতে স্পেনকেও অপেক্ষা করতে হয়েছে শেষ সময় পর্যন্ত। ফুটবলের বড় দুই ‘পাওয়ারহাউজ’ ব্রাজিল আর জার্মানি তো এরই মধ্যে বিদায় নিয়েছে। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি তাই বলছেন, এই বিশ্বকাপে ফেভারিট বলতে কিছু নেই।
মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে মাঠে নামার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই কথা বলেছেন স্কালোনি।
মেসিদের কোচ বলেছেন, ‘আগের বিশ্বকাপগুলোতে যেমন দেখা যেত, এবার তেমন কোনো স্পষ্ট ফেভারিট দল নেই। আগের আসরগুলোর তুলনায় এবার কন্ডিশনও অনেক আলাদা’।
বিশ্বকাপে ম্যাচ সংখ্যা বেড়ে যাওয়াকেও ফেভারিট দল না থাকার একটি কারণ হিসেবে দেখছেন স্কালোনি, ‘আগের চেয়ে খেলোয়াড়দের এবার বেশি ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। তাদের শরীরের উপর ধকল বেশি যাচ্ছে। হয়তো দলগুলোকে আগের মানের ফুটবল খেলতে না দেখার পেছনে এটিও একটি কারণ। বিশ্বকাপের আগে যে চার-পাঁচটি দলকে স্পষ্ট ফেভারিট হিসেবে দেখছিলো অনেকে, তারাও কিন্তু প্রত্যাশিত মানের ফুটবল খেলতে পারছে না’।
তবে সামগ্রিকভাবে দলগুলোর খেলার মানে কিছুটা ভাটা পড়লেও নিজের দলের পারফরম্যান্সে অখুশি নন স্কালোনি, ‘আমরা গ্রহণযোগ্য মানের ফুটবলই খেলেছি। আমরা টানা চার ম্যাচ জিতেছি, এবং আমার মনে হয় এতে আমরা খুশি হতে পারি। তবে ম্যাচ জিতলেও কিছু জিনিস শুধরে নেয়ার জায়গা সবসময়ই থাকে’।
কন্ডিশন, মাঠ, বল- সবকিছু মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপকে বেশ কঠিন মনে হচ্ছে আর্জেন্টিনা কোচের, ‘এই বিশ্বকাপ অনেক দিক থেকেই কঠিন। ভ্রমণ, গরম, মাঠ, আবার ঘাসের কারণে বল সবসময় ভালো ভাবে নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন। অনেকগুলো কারণেই দলগুলো নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে খাবি খাচ্ছে’।
তবে স্কালোনি আত্মবিশ্বাসী, সবকিছু নিজেদের পক্ষে না গেলেও ম্যাচ জেতার মতো সামর্থ্য তার দলের আছে, ‘যখন ম্যাচ আপনার পক্ষে যাচ্ছে না, কিংবা প্রতিপক্ষ আপনার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তখন আপনার দরকার হবে একাগ্রতা আর মানসিক দৃঢ়তা। এগুলো আমাদের ডিএনএ তেই আছে। আপনি যখন খারাপ খেলবেন, তখন এগুলো আপনার দরকার হবে। নাহলে আপনি বাদ পড়বেন। আমরা যদি গত ম্যাচে আমাদের চরিত্র না দেখাতে পারতাম, তাহলে এতক্ষণে আমরা টুর্নামেন্টের বাইরে থাকতাম’।
