চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন এখন আর শুধু বড় বড় মহাকাশ সংস্থার নয়। ছোট প্রতিষ্ঠানও চাইলে নিজের যন্ত্রপাতি পাঠাতে পারবে। ঠিক যেমন বাস বা বিমানে একসঙ্গে অনেক যাত্রী ভ্রমণ করেন, তেমনি এক রকেটে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালামাল যাবে চাঁদে। সেই সুযোগই তৈরি করছে জাপানের মহাকাশ কোম্পানি আইস্পেস।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের স্টারশিপ ব্যবহার করে তারা নতুন ধরনের একটি চন্দ্র কার্গো সেবা চালু করছে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বেসরকারি কোম্পানি তুলনামূলক কম খরচে নিজেদের পেলোড চাঁদে পাঠাতে পারবে।
এ জন্য আইস্পেস ২০৩০ সালের একটি স্টারশিপ মিশনে ৫০০ কেজি মালামাল বহনের জায়গা কিনেছে। এর জন্য তাদের খরচ হয়েছে ৫ কোটি ডলার।
কোম্পানিটি এমন একটি চন্দ্রযান তৈরি করবে, যেখানে একসঙ্গে অনেক গ্রাহকের মালামাল রাখা যাবে। সহজ করে বললে, এটি হবে চাঁদে যাওয়ার একটি ‘রাইড-শেয়ার’ ব্যবস্থা। একেকটি প্রতিষ্ঠান পুরো মহাকাশযান ভাড়া না নিয়ে শুধু নিজের প্রয়োজনীয় জায়গাটুকুই ব্যবহার করতে পারবে।
আইস্পেসের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট হিদেয়ারি কামিয়ার ভাষায়, নতুন এই সেবা হবে চাঁদগামী একটি ‘বাস’। আর তাদের নিজস্ব ল্যান্ডারগুলো হবে ‘ট্যাক্সি’। বাসে করে সবাই চাঁদের কাছাকাছি পৌঁছাবে, তারপর ট্যাক্সি যাত্রী বা মালামালকে নির্দিষ্ট জায়গায় নামিয়ে দেবে।
অবশ্য আইস্পেসের পথচলা খুব সহজ ছিল না। ২০২৩ ও ২০২৫ সালে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটে ভর করে চাঁদে অবতরণের চেষ্টা করলেও দুইবারই শেষ মুহূর্তে ব্যর্থ হয় তারা।
তবু থেমে নেই প্রতিষ্ঠানটি। ২০৩০ সালের মধ্যে ‘আল্ট্রা’ নামের তিনটি নতুন ল্যান্ডার চাঁদে নামানোর লক্ষ্য নিয়েছে তারা। এর একটি মিশন থাকবে নাসার কমার্শিয়াল লুনার পেলোড সার্ভিসেস কর্মসূচির অধীনে।
আইস্পেসের প্রধান নির্বাহী তাকেশি হাকামাদার বিশ্বাস, স্পেসএক্সের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব তাদের ব্যবসাকে অনেক দ্রুত এগিয়ে নেবে। কারণ ভবিষ্যতে চাঁদে গবেষণা, খনিজ অনুসন্ধান এবং স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এমন পরিবহন সেবার চাহিদাও বাড়বে।
স্পেসএক্সও এই অংশীদারিত্বকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক বিক্রয় বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টেফানি বেডনারেক বলেন, ছোট ছোট পেলোডের জন্য চাঁদে যাওয়ার পথ আরও সহজ হবে। ফলে আরও বেশি প্রতিষ্ঠান চন্দ্র অভিযানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
তবে এই চুক্তি শুধু আইস্পেসের জন্য নয়। নাসাও ২০২৮ সালে আর্টেমিস কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্টারশিপে নভোচারীদের চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ অ্যাস্ট্রোল্যাবও ভবিষ্যতের একটি স্টারশিপ মিশনে নিজেদের রোভার পাঠানোর জন্য জায়গা বুক করে রেখেছে।
মজার বিষয় হলো, এই নতুন ব্যবসার ধারণাটি প্রথম দিয়েছিল স্পেসএক্সই। আইস্পেসের প্রধান নির্বাহী জানান, তারাই আগে এই ‘রাইড-শেয়ার’ মডেলের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল।
