ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসে ৪ জেলায় ৩০ জনের মৃত্যু: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী

ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড় ধসে চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ জেলায় মোট ৩০ জন মারা গেছেন বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ ধারায় এক বিবৃতিতে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারে ১৯ জন, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে ৫ জন করে এবং রাঙ্গামাটিতে একজন মারা গেছেন।

তিনি বলেন, সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও জরুরি মানবিক চাহিদা মেটানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪১, কক্সবাজারে ৬৪০, রাঙ্গামাটিতে ২১, খাগড়াছড়িতে ১৩৫ ও বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।’

চট্টগ্রামের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ৮ হাজার ৩৪০ জন, রাঙ্গামাটিতে ১২৬ জন, খাগড়াছড়িতে ১ হাজার ৭৫৫ জন ও বান্দরবানের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ২ হাজার ১৭৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী আসাদুল হাবিব জানান, প্রাথমিকভাবে সরকার গত ৭ জুলাই ক্ষতিগ্রস্ত ৫ জেলার প্রতিটির জন্য জিআর কর্মসূচির আওতায় নগদ ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করে।

চলমান ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে আজ বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

নতুন বরাদ্দ অনুযায়ী চট্টগ্রামে ২৫ লাখ টাকা ও কক্সবাজারে ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

সরকার চট্টগ্রাম জেলার জন্য আরও ৩০০ মেট্রিকটন, কক্সবাজারের জন্য ২৫০ মেট্রিকটন এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ২০০ মেট্রিকটন করে অতিরিক্ত চাল বরাদ্দ করেছে বলে জানান ত্রাণমন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, শিশুখাদ্য এবং তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মন্ত্রী দুলু জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর প্রতিটির জন্য ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। প্রয়োজন হলে আরও জরুরি সহায়তা বরাদ্দ করা হবে।’

পাহাড় ধসে বারবার প্রাণহানির বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘খাস জমি ও অন্যান্য সরকারি জমিতে বাড়ি তৈরি করে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করতে সরকার প্রস্তুত। ভবিষ্যতে পাহাড়ধসে ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানান্তর উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করতে হবে।’

Related Articles

Latest Posts