বিশ্বকাপ থেকে আগেভাগে বাদ পড়ার হতাশা ভুলে আবারও বিশ্বের শীর্ষে ফেরার স্বপ্নের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের হেক্সা মিশন অসম্পূর্ণ থাকলেও সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
গত রোববার রাতে শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে এবারের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের সময়টা ভালো না কাটলেও আসরজুড়ে ভীষণ ছন্দে ছিলেন ভিনিসিয়ুস। চারটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে সেলেসাওদের সেরা পারফর্মার ছিলেন তিনিই। বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলের জার্সিতে তার পারফরম্যান্স নিয়ে থাকা সব সমালোচনার পাল্টা জবাব তিনি দিয়েছেন টুর্নামেন্টে দারুণ খেলে।
ছিটকে যাওয়ার পর কিছুটা সময় নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন ভিনিসিয়ুস। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘প্রায় চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপের হতাশার পর কী লিখব তা নিয়ে ভাবছিলাম। সব বয়সের এত মানুষকে আমাকে সমর্থন করতে এবং আমাদের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরতে দেখেছি যে, চুপ থাকাটা অন্যায় হবে। যদিও ভাবার জন্য কয়েকটা দিন সময় আমার দরকার ছিল।’
শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের কষ্ট জানিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা যোগ করেছেন, ‘জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়। আর বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার অনুভূতি ব্যাখ্যা করা কঠিন। আমি জানি, আমি কতটা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কতটা মনোযোগী ছিলাম… আপনাদের জন্য, আমার পরিবারের জন্য আমি এটা (বিশ্বকাপের শিরোপা) কতটা চেয়েছিলাম।’
অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তির বেছে নেওয়া ব্রাজিলের স্কোয়াডে তারকার ছড়াছড়ি না থাকলেও পার্থক্য গড়ার মতো খেলোয়াড়রা ছিলেন। তাই আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড, ‘হতাশার অনুভূতিটা চরম। আরও বেশি কিছু করার মতো শক্তিশালী একটি দল আমাদের ছিল। কিন্তু আমরা পারিনি।’
সবশেষে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ভিনিসিয়ুস বলেছেন, ‘আমি ক্ষমা চাইছি এবং আমাদের বিশ্বের শীর্ষে ফেরার স্বপ্নের জন্য লড়াই করে যাব।’
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সফলতম দল ব্রাজিল শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০০২ সালে। সেই থেকে কেবল একবারই তারা সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে— ২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত আসরে। আর ১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথম ফুটবলের মহাযজ্ঞের শেষ ষোলোতে থেমেছে তাদের যাত্রা।
