আলোচনায় না ফিরলে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র উড়িয়ে দেব: ট্রাম্প

অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে না ফিরলে আগামী সপ্তাহে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আজ বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই হুমকি দেন রিপাবলিকান নেতা।

এমন সময় তিনি এই বক্তব্য দিলেন, যখন দুই দেশ টানা চার দিন ধরে হামলা-পাল্টা হামলায় জড়িয়ে আছে।

এর আগে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করা সব নৌযানের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও পরে ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

তবে তার নির্দেশে মার্কিন সেনারা ইরানের সব বন্দরের বিরুদ্ধে আবারও ‘ব্লকেড’ চালু করেছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী সপ্তাহটা ওদের (ইরান) খুব খারাপ যাবে। আমরা তাদের সব বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র অকেজো করে দেব। তারা যদি আলোচনার টেবিলে ফিরে দরকষাকষি না করে, তাহলে আমরা তাদের সব সেতু ধ্বংস করে দেব।’

গত এপ্রিলেও ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রসহ বেসামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

সে সময় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ফলকার তুর্ক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধের শামিল।’

১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন যুদ্ধ এবং সশস্ত্র সংঘাতে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত চারটি আন্তর্জাতিক চুক্তির একটি। ওই চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ‘অত্যাবশ্যক’ স্থাপনায় হামলা চালানো নিষিদ্ধ।

মঙ্গলবার রাতে প্রচারিত ফক্স নিউজের ‘স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বেইয়ার’ অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ট্রাম্প আরও জানান, ‘আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে রেহাই দেব। তবে শেষ পর্যন্ত সেগুলোর ওপরও হামলা হবে।’

মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের প্রতিনিধিদের মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন, ‘দ্রুত চুক্তি করা আপনাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে। আর না হলে আপনাদের কাছে আর কিছুই থাকবে না।’

সাক্ষাৎকারে এমন দাবি করেন ট্রাম্প।

এর আগে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালির ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ না করে বরং উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘বিশাল’ আকারের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি করতে বাধ্য করবেন তিনি।

এর কয়েক ঘণ্টা পরই ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে ব্লকেড চালু করে ওয়াশিংটন।

সোমবার এক নাটকীয় ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’।

তিনি এই নৌপথকে সুরক্ষিত রাখতে সেখান দিয়ে যাতায়াত করা সব নৌযানের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপের প্রস্তাব দেন।

পাশাপাশি, ইরানকে চাপে রাখতে আবারও ব্লকেড চালুর ঘোষণাও দেন এই সাবেক আবাসন ব্যবসায়ী।

তবে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া সর্বশেষ পোস্টে ট্রাম্প ওই অবস্থান থেকে সরে আসার কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘২০ শতাংশ ফি আদায় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিবর্তে কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি করবে।

‘এই বিনিয়োগগুলোর পরিমাণ অনেক বেশি হবে। তবে একই সঙ্গে এটি ওই দেশগুলোর জন্য খুবই উপকারী হবে। ভবিষ্যতেও এই উপকার অব্যাহত থাকবে’, যোগ করেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য জানাননি তিনি।

ট্রাম্পের এসব ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, ট্রাম্পের ব্লকেড আরোপের সিদ্ধান্তে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ভেস্তে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, তারা আমাদের বিরুদ্ধে কঠোর উদ্যোগ নিয়ে, সামরিক অভিযান চালিয়ে এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আমাদের আলোচনায় ফিরতে বাধ্য করবে, তাহলে তারা ভুল করছে।’

 

Related Articles

Latest Posts