আশুলিয়ায় ডিবি পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর)। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি নোহা মাইক্রোবাস জব্দ এবং ‘ডিবি’ লেখা তিনটি জ্যাকেটসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ বুধবার ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে আশুলিয়ার নবীনগরে জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনে জয় রেস্তোরাঁর পার্কিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. শামীম রেজা (৩০), মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৫০), মো. রাশেদ (৩৮), পলাশ শেখ ওরফে আপন ওরফে আফজাল (৩৮), মো. কামাল হোসেন (৪৫), মো. সোহাগ ওরফে আব্দুল্লাহ (৪২), মো. কামরুল হোসেন (৫৪), মো. মনিরুল ইসলাম (৪০) ও মো. রাসেল (৩৫)।
এদের কাছ থেকে ‘ডিবি’ লেখা তিনটি জ্যাকেট, একটি হ্যান্ডকাফ, দুটি খেলনা পিস্তল, দুটি ইলেকট্রিক শক ডিভাইস, তিনটি স্টিলের সুইচ গিয়ার ছুরি ও একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করেছে পুলিশ। জব্দ করা হয় একটি নোহা মাইক্রোবাসও।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডিবি ও র্যাব সদস্য পরিচয়ে ডাকাতির কথা স্বীকার করেছেন।
ঢাকা জেলা উত্তর ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘চক্রটির সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করত। তাদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে।’
ওসি সাইদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
গ্রেপ্তার ৯ জনকে ঢাকা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনও করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তার শামীমের বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতির মামলা, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে পাঁচটি ডাকাতির মামলা, রাশেদের বিরুদ্ধে চারটি ডাকাতিসহ মোট সাতটি মামলা, পলাশ শেখের বিরুদ্ধে পাঁচটি ডাকাতিসহ মোট ছয়টি মামলা, কামালের বিরুদ্ধে দুটি মামলা, সোহাগের বিরুদ্ধে মাদক, ডাকাতির প্রস্তুতি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মোট চারটি এবং কামরুলের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির একটি মামলা রয়েছে।
তবে মো. মনিরুল ইসলাম ও মো. রাসেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলার তথ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
