দেশম যুগের শেষে জিদানের হাতে নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায় ফ্রান্স

টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার প্রত্যাশা পরিণত হয়েছে হতাশায়। স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে শিরোপার স্বপ্ন ভেঙেছে ফ্রান্সের। তবে এই হার শুধু একটি ম্যাচের পরাজয় নয়, এটি যেন দিদিয়ের দেশমের দীর্ঘ অধ্যায়েরও শেষ অধ্যায়। এখন ফরাসি ফুটবল তাকিয়ে আছে নতুন এক যুগের দিকে, যেখানে নেতৃত্বে আসতে পারেন কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের হার ছিল হতাশাজনকই নয়, একেবারেই নিষ্প্রভ। টানা ছয় জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে ডালাসে নামলেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে বলের নিয়ন্ত্রণ, কৌশল কিংবা আক্রমণ কোনো দিকেই আধিপত্য দেখাতে পারেনি কিলিয়ান এমবাপের দল।

এ নিয়ে টানা তিনটি বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হারল ফ্রান্স। এর আগে ইউরো ২০২৪ ও নেশন্স লিগেও একই প্রতিপক্ষের কাছে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।
ম্যাচ শেষে হতাশ এমবাপে স্বীকার করে নেন, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতেই পারেনি দল, ‘কৌশলগত ও কারিগরি দুই দিক থেকেই আমরা যে ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলাম, তা খেলতে পারিনি। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে না পারলে জেতা যায় না।’

দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা রায়ান চেরকিও দায় চাপাননি রেফারি কিংবা প্রতিপক্ষের ওপর। তার ভাষায়, ‘আমরা নিজেদের কাছেই হেরেছি। রেফারির কারণে নয়, শুধু স্পেনের কারণেও নয়।’

এই হারের মধ্য দিয়েই প্রায় শেষ হতে যাচ্ছে দিদিয়ের দেশমের ১৪ বছরের সফল অধ্যায়। ২০১২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ২০১০ বিশ্বকাপের বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলার ধাক্কায় বিধ্বস্ত ছিল ফরাসি ফুটবল। সেই দলকেই তিনি গড়ে তুলেছিলেন বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তিতে।

তার অধীনে ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছে ফ্রান্স, ২০২২ সালে খেলেছে ফাইনাল। শৃঙ্খলা, ভারসাম্য ও টুর্নামেন্টভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ধারাবাহিক সাফল্য এনে দিয়েছেন তিনি, যদিও অনেকের মতে আক্রমণভাগের বিপুল প্রতিভার পুরো সদ্ব্যবহার সবসময় করতে পারেননি।

এবার সেই দায়িত্ব নেওয়ার সবচেয়ে বড় দাবিদার জিনেদিন জিদান। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও সাবেক ফরাসি অধিনায়ক ও রিয়াল মাদ্রিদের সফল কোচকেই দেশমের স্বাভাবিক উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রতিভার অভাব নয়, বরং এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, দেজিরে দুয়ে, ব্র্যাডলি বারকোলার মতো এমন অসাধারণ ফুটবলারদের নিয়ে কার্যকর একটি দল গড়ে তোলা।

এই বিশ্বকাপে ওলিসের উত্থান এবং আক্রমণভাগের কিছু ইতিবাচক দিক জিদানকে আশাবাদী করতে পারে। তবে স্পেনের বিপক্ষে অসহায় আত্মসমর্পণ এটাও মনে করিয়ে দিয়েছে, সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপ দিতে এখনও অনেক কাজ বাকি।

এমবাপের বয়স এখন ২৭। সামনে ইউরো ২০২৮ ও ২০৩০ বিশ্বকাপ রয়েছে। সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি। কিন্তু বড় মঞ্চে সুযোগ বারবার আসে না। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে টাইব্রেকারে হারের পর এবার টানা তৃতীয় বড় আসরে স্পেনই থামিয়ে দিল ফ্রান্সকে।

Related Articles

Latest Posts