ফ্রান্সের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে এই শতাব্দীতে টানা দুইটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব এখন আর্জেন্টিনার। আরও একটি রূপকথার মতো প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আর্জেন্টিনার ফুটবলারেরা বলেছেন, তাদের এই অর্জন ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকবে।
ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোর রাস্তাটা মোটেও সহজ ছিল না বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। নকআউটের প্রতিটি ম্যাচেই কঠিন লড়াই করে জিতে ফিরতে হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও পিছিয়ে পড়ে শেষ বিশ মিনিটে আক্রমণের ঝড় তুলে জয় আদায় করে নিয়েছে। কেইনদের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্সের প্রশংসা শোনা গেলো গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের কণ্ঠে।
মার্টিনেজ বলেছেন, ‘গ্রুপ পর্বের পর আমরা যে প্রতিপক্ষদের পেয়েছিলাম, তা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু নকআউটে এসেই বোঝা যায় বিশ্বকাপ আসলে কতটা কঠিন। সেরা দলগুলো যদি জিতে আসতে না পারে তাহলে সেরাদের মুখোমুখি হওয়া কঠিন। আজ আমরা এমন একটি দলের বিপক্ষে খেলেছি যাদের দুই-তিনটি শক্তিশালী স্কোয়াড বানানোর সামর্থ্য আছে এবং তাদের ওপর আধিপত্যও বিস্তার করেছি’।
রাজনৈতিক ইতিহাসের কারণে এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা একটু বেশি জড়িয়ে গিয়েছিলেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে দিবু মার্টিনেজ বলেছেন, ‘গতবার ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের মতো এই ম্যাচকেও আমরা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল হিসেবেই খেলেছি। সমর্থকদের জন্য এটা বিশেষ ম্যাচ সেটা আমরা জানতাম, তবে আমাদের জন্য স্রেফ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল’।
তবে সেন্টারব্যাক লিসান্দ্রো মার্টিনেজ বলেছেন, সমর্থকদের আবেগ খেলোয়াড়দেরও ছুঁয়ে গিয়েছিল, ‘মিথ্যা বলব না। আমরাও তো আর্জেন্টিনার মানুষ। সমর্থকদের মতো আমাদেরও আবেগ কাজ করেছিল। এই ম্যাচের তাৎপর্য আমরা জানতাম, এবং আমরা প্রথম মিনিট থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। আমাদের কষ্ট করতে হয়েছে, কারণ প্রতিপক্ষ হিসেবে তারা খুবই কঠিন। কিন্তু দিনশেষে আমরাই সেই দল যারা ভয়ডরহীন ফুটবল খেলেছি, গোল করার প্রচেষ্টা নিয়েছি এবং ম্যাচটা জিততে চেয়েছি’।
আর্জেন্টিনার এই অর্জনকে ঐতিহাসিকও বলেছেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য লিসান্দ্রো, ‘আমরা আজ যা অর্জন করেছি তা ইতিহাস হয়ে থাকবে। প্রত্যেক আর্জেন্টাইনের জন্য এটা বিশেষ। মানুষ টেলিভিশনে আমাদের খেলতে দেখে আমাদের সাথে আত্মিক বন্ধন অনুভব করছে, এটা জেনে আমাদের হৃদয় পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। আমরা স্রেফ এক ধাপ দূরে আছি, তবে এখন উদযাপনের সময়’।
কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে নিয়ে গত বছর ফিনালিসিমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেটি হয়নি। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চেই এখন মুখোমুখি হচ্ছে দল দুটি। ফাইনালে দুই দল মুখোমুখি হতে পারে এমন সম্ভাবনার কথা আগে থেকেই জানতেন বলে মন্তব্য করেছেন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস, ‘আমরা জানতাম এটা হতে পারে (আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল), এবং এটাই হচ্ছে। খুব কঠিন একটা ম্যাচ হতে যাচ্ছে, কারণ স্পেন দুর্দান্ত একটি দল। বিশ্বকাপের ফাইনাল অবশ্য কঠিনই হওয়ার কথা’।
স্পেনের মতো দলের বিপক্ষে ফাইনাল নিয়ে উচ্ছ্বসিত আরেক মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালেস্টারও, ‘আমরা জানি স্পেন দারুণ দল। আমরাও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। দারুণ একটি ফাইনাল হতে চলেছে। সবচেয়ে বড় কথা, দুটো দল যারা ভালো ফুটবল খেলতে চায়, তারাই ফাইনাল খেলছে। এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়’।
