অনেক বছর ধরেই একটি কথা শোনা যায়। বলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা থ্রি ইডিয়টসে আমির খানের র্যাঞ্চো বা ফুনসুখ ওয়াংডু চরিত্রটি সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত।
সেই আলোচনাই আবার নতুন করে সামনে এসেছে। কারণ, দিল্লির যন্তর-মন্তরে আমরণ অনশনে বসেছেন সোনম ওয়াংচুক।
এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন আমির খান। তিনি ওয়াংচুকের অনশন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে থ্রি ইডিয়টস নিয়ে বহুদিনের প্রচলিত ধারণাটি নিয়ে কথা বলেছেন।
বলিউড হাঙ্গামার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে থ্রি ইডিয়টসে চতুর চরিত্রে অভিনয় করা ওমি বৈদ্য একটি আবেগঘন ভিডিও প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তাই সবার উচিত তার দিকে নজর দেওয়া।
শুধু তা-ই নয়। ওমি দাবি করেন, সিনেমার ফুনসুখ ওয়াংডু চরিত্রটি সোনম ওয়াংচুকের বাস্তব জীবন থেকেই অনুপ্রাণিত।
এরপর ১৬ জুলাই লন্ডন-ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সমাপনী অনুষ্ঠানে হাজির হন আমির খান। সেখানে প্রদর্শিত হয় তার অভিনীত লগান।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকেরা সোনম ওয়াংচুকের অনশন নিয়ে আমিরকে প্রশ্ন করেন। জবাবে আমির বলেন, ‘আমরা সবাই তার স্বাস্থ্য ও জীবন নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। আমরা আশা করছি, সবকিছুর ভালো সমাধান হবে। আমরা চাই, তিনি তার অনশন শেষ করুন।’
এরপর থ্রি ইডিয়টসের ফুনসুখ ওয়াংডু চরিত্র নিয়ে কথা বলেন আমির খান।
তার ভাষ্য, ‘না, এটা সত্যি নয়। এটা একটি ভুল ধারণা। আমরা যখন থ্রি ইডিয়টস বানাচ্ছিলাম, তখন আমি মি. সোনমকে চিনতামই না।’
আমির দাবি করেন, সিনেমার চিত্রনাট্য লেখা ও নির্মাণের সময় নির্মাতা দলের কেউই সোনম ওয়াংচুক সম্পর্কে জানতেন না।
ওমি বৈদ্যের বক্তব্য নিয়েও সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানান আমির।
ওমি বলেছিলেন, সোনম ওয়াংচুকের বাস্তব জীবনের কাজ থেকেই ফুনসুখ ওয়াংডু চরিত্রের অনুপ্রেরণা এসেছে।
এ বিষয়ে হাসতে হাসতেই আমিরের জবাব, ‘চতুর ভুল বলেছে।’
এরপর আবারও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি। আমির বলেন, থ্রি ইডিয়টস নির্মাণের সময় সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে সিনেমার কোনো সম্পর্ক ছিল না। পরিচালক রাজকুমার হিরানি এবং চিত্রনাট্যকার অভিজাত যোশী-ও তখন তাকে চিনতেন না।
তবে এখানেই শেষ নয়।
আমিরের মতে, সোনম ওয়াংচুকের কাজ ও সমাজে তার অবদান আলাদাভাবেই সম্মান পাওয়ার যোগ্য। সেটিকে থ্রি ইডিয়টসের সঙ্গে যুক্ত করতেই হবে এমন কোনো প্রয়োজন নেই। তার কাজের মূল্য তার নিজের অর্জনেই।
