এনবিআর সার্ভার হ্যাক করে মদ-সিগারেট খালাসচেষ্টা: সংঘবদ্ধ চক্রের আরও ১ জন গ্রেপ্তার

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সার্ভারে অবৈধভাবে প্রবেশ করে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে বিদেশি মদ ও সিগারেট খালাসচেষ্টার ঘটনায় সংঘবদ্ধ চক্রের আরও ১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

আজ শুক্রবার সিএমপির পরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা সনজয় কুমার সিনহা দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার শেখ সেজান (২৬) প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে কাস্টমসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভাঙতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিএমপি জানায়, গত ১৫ জুলাই নেপালে পালানোর সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় সেজানকে আটক করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আগের এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গ্রেপ্তার সেজান ২০২৪ সালে বিদেশি মদ ও সিগারেট চোরাচালানের দুটি পৃথক মামলায় অভিযুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, একটি সংঘবদ্ধ চক্র চীন থেকে বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্ত ফেব্রিক্স আমদানির মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে একটি কনটেইনারে ১১ হাজার ৬৭৬ লিটার বিদেশি মদ এবং আরেকটি কনটেইনারে প্রায় ৫০ লাখ শলাকা বিদেশি সিগারেট আমদানির চেষ্টা করে। এতে সরকারের অন্তত ১০-১২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা করা হয়।

পুলিশ পরিদর্শক সনজয় কুমার সিনহা বলেন, ‘গ্রেপ্তার সেজান ভারত হয়ে পালিয়েছিল। এরপর দেশে এসে ভিন্ন নামে পাসপোর্ট তৈরি করে আবার বিদেশে পালানোর চেষ্টা করছিল। বিষয়টি আগেই ইমিগ্রেশনে জানানো হয়।’

তিনি জানান, শেখ সেজান এনবিআরের সিস্টেম এবং চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্ট পোর্টাল ব্যবহারে অননুমোদিত প্রবেশ, অন্য কর্মকর্তার ইউজার আইডি ব্যবহার, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন ও জাল এলসি নিবন্ধনের মাধ্যমে কনটেইনার খালাসের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত সহায়তা দেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এসব বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন।

‘তার তথ্যের ভিত্তিতে আরও এক আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে,’ যোগ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

তদন্তে পাওয়া ডিজিটাল আলামতের বরাতে সিএমপি জানায়, ২০২৪ সালের ২০ মে একটি বেসরকারি মোবাইল অপারেটরের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে চট্টগ্রাম কাস্টমসের এক কর্মকর্তার ইউজার আইডি দিয়ে অননুমোদিতভাবে সার্ভারে লগইন করা হয়। এরপর একই আইডি ব্যবহার করে বিদেশি সিগারেট আমদানির জন্য এলসি নিবন্ধন ও খোলার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

সিএমপি আরও জানায়, শেখ সেজানের বিরুদ্ধে এর আগে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, জন্মনিবন্ধন, টিকা সনদসহ বিভিন্ন সরকারি ডিজিটাল সেবা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। সরকারি ওয়েবসাইটের ক্লোন তৈরি এবং সাইবার প্রতারণার অভিযোগে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় সাইবার অপরাধ ও প্রতারণার ৭টি মামলা রয়েছে।

কাস্টমসের তদন্ত ও দ্য ডেইলি স্টারের অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তত ৪৮টি আমদানি চালান এবং প্রায় ৩ হাজার ভুয়া রপ্তানি চালানের ক্ষেত্রে এনবিআর সার্ভারে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, এসব ঘটনা দেশের শুল্ক ব্যবস্থার নিরাপত্তা এবং জাতীয় রাজস্ব সুরক্ষার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে।

Related Articles

Latest Posts