জর্দানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত ও একজন নিখোঁজ হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরানের ওপর নতুন করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
গতকাল শনিবার হামলা শুরুর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন সংঘাত বাড়ানোর চেষ্টা করলে তার ফল ভোগ করতে হবে।
সেন্ট্রাল কমান্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশক্রমে বিমান হামলা হয়েছে।
বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথে ইরানের হুমকি দেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে আনা এবং জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলাকারী বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীকে দ্রুত শাস্তি দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালিয়েছে, তবে সেখানে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
গত মাসে হওয়া একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত সপ্তাহে ভেঙে যাওয়ার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এটি বড় ধরনের যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
শুক্রবার দুই মার্কিন সেনা নিহতের পাশাপাশি একজন নিখোঁজ হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে সেন্ট্রাল কমান্ড। এ নিয়ে বর্তমান যুদ্ধে মোট ১৬ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারালেন এবং আহতের সংখ্যা ৪২০ ছাড়াল।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক বার্তায় বলেন, তাদের এই আত্মত্যাগ আমাদের মনোবলকে আরও শক্ত করবে।
ইরানের বিভিন্ন সেতু ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মার্কিন হামলার পাল্টা জবাবে ইরানও সৌদি আরব, জর্দান ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে বলেন, আমেরিকার বর্তমান আচরণই প্রমাণ করে ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য বা গ্রহণযোগ্যতা নেই। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বড় বিপর্যয় ও অপমানের মুখে পড়ার হুঁশিয়ারি দেন। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
গত ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং তাদের আঞ্চলিক প্রক্সি (সহযোগী) গোষ্ঠীগুলোকে অকার্যকর করে দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটিতে হামলা চালায়। এরপর ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো শুরু করে ইরান। এর মাধ্যমেই ইরান যুদ্ধ শুরু হয়।
