পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান লাভলুর বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।
মিজানুর রহমানের পরিবারের দাবি, একদল লোক খননযন্ত্র (ভেকু) ব্যবহার করে বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেয় এবং পরে লুটপাট শেষে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
শনিবার ভোররাতে উপজেলার কাঁঠালতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে রোববার সকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় থানা বা আদালতে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ঘটনাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ইতোমধ্যে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।
মির্জাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, শনিবার সকাল ৬টা ৮ মিনিটে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে চারটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখানে বাড়ির সামনের অংশ ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কাজী মিজানুর রহমান এলাকা ছেড়ে যান। এরপর বাড়িটিতে তার স্ত্রী শিল্পী বেগম ও বৃদ্ধা মা বসবাস করতেন। তবে চিকিৎসার জন্য তারা ঢাকায় থাকায় ঘটনার সময় বাড়িটি খালি ছিল। সেই সুযোগে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়।
শিল্পী বেগম অভিযোগ করেন, মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান (পলাশ) ও সাবেক সভাপতি মনির খন্দকারের নেতৃত্বে দুই শতাধিক লোক খননযন্ত্র দিয়ে তাদের একতলা পাকা বাড়িটি ভেঙে ফেলেন।
তার দাবি, ভাঙচুরের পর বাড়ি থেকে চারটি রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, এয়ার কন্ডিশনার ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়। এরপর প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের বাড়িটি গুঁড়িয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে কয়েকজনের কাছ থেকে মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বাড়ি থেকে অল্প দূরত্বে কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও হামলাকারীদের ভয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এগোতে পারেননি বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছেন।
বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী। তিনি বলেন, কারা হামলা চালিয়েছে তা তার জানা নেই। শুক্রবারই তিনি ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরেছেন।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
অন্যদিকে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মনির খন্দকার বলেন, কাজী মিজানুর রহমান স্থানীয় একটি পাবলিক লাইব্রেরির জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
তার ভাষ্য, চাইলে ৫ আগস্টের পরই বাড়িটি ভেঙে ফেলা যেত, কিন্তু তখন তারা সেটি না করে পাহারা দিয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে মিজানুর রহমান বর্তমান সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বাড়িতে একাধিকবার হামলা চালিয়েছিলেন।
তবে কাজী মিজানুর রহমান লাভলু এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তিনি বৈধভাবে জমি কিনে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
‘আমি কোনো জমি দখল করিনি। যারা বাড়ি ভেঙেছে, তাদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধও নেই,’ বলেন তিনি।
এ বিষয়ে ইউএনও শেখ মো. রাসেল জানান, ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং মিজানুর রহমানের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি।
তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
