পরিসংখ্যানের আলোয় আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন

ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই কোটি ফুটবলপ্রেমীর স্পন্দন। ৪৮ দলের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ আর্জেন্টিনা আর তারুণ্যের শক্তিতে মোহনীয় স্পেন। মহাতারকা লিওনেল মেসি যেখানে খেলতে নামছেন তার বিশ্বকাপের সম্ভাব্য শেষ ম্যাচ, সেখানে প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলবে লামিন ইয়ামালসহ স্পেনের তরুণ তারকারা। মেগা ফাইনালের আগে দেখে নেওয়া যাক কিছু পরিসংখ্যান। 

অপ্রতিরোধ্য স্পেন ও রদ্রি-ইয়ামালদের দাপট

স্পেন দলগত এবং ব্যক্তিগত—দুই দিক থেকেই রেকর্ডের খাতা ওলটপালট করছে।

পাসের রাজা রদ্রি: মাঝমাঠের জেনারেল রদ্রি উত্তর আমেরিকার এই টুর্নামেন্টে মোট ৬৪৮টি সফল পাস দিয়ে এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি পাসের নতুন রেকর্ড গড়েছেন। তিনি তার নিজের ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের রেকর্ড (৬৩৮) ভেঙেছেন। তার ঠিক পরেই আছেন স্পেনের দুই ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি (৫৪৭) ও আইমেরিক লাপোর্তে (৫৩৩)।

অপরাজিত ৩৭ ম্যাচ: ২০২৪ সালের মার্চে কলম্বিয়ার কাছে ১-০ গোলে হারার পর থেকে লা রোখারা টানা ৩৭ ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে (২৭ জয়, ১০ ড্র)। এটি ছেলেদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইতালির (২০১৮-২০২১) করা টানা অপরাজিত থাকার বিশ্বরেকর্ডের সমান।

ড্রিবলিংয়ে সেরা ইয়ামাল: স্প্যানিশ উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ৩০টি সফল ড্রিবলিং করেছেন। তার পেছনে আছেন কিলিয়ান এমবাপে (২৪) ও ভিনিসিউস জুনিয়র (২৩)।

নতুন আক্রমণাত্মক রূপ: এই বিশ্বকাপে স্পেন এ পর্যন্ত ১৩টি গোল করেছে, যা ১৯৮৬ সালের এমিলিও বুত্রাগুয়েনোর সময়কালের চেয়ে দুটি এবং ২০১০ সালে তাদের বিশ্বকাপ জেতার আসরের চেয়ে পাঁচটি বেশি।

সলিড রক্ষণ ও উনাই সিমন: গোলরক্ষক উনাই সিমন ৭ ম্যাচের মধ্যে ৬টিতেই কোনো গোল খাননি (ক্লিন শিট), যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন গোল খেয়েছে মাত্র ১টি। ফাইনালে জিতলে তারা চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম গোল খাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়বে।

রেকর্ডবুকে ও ওয়ারজাবাল: মিকেল ওয়ারজাবাল এই আসরে ৫টি গোল করেছেন, যা এক বিশ্বকাপে কোনো স্প্যানিশ খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের সমান।

আর্জেন্টিনার বিধ্বংসী আক্রমণ ও মেসির মহাকাব্য

আর্জেন্টিনা এই টুর্নামেন্টে অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানোর ধারাবাহিকতা ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়েছে।

মেসির চিরসবুজ জাদু: ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি এই টুর্নামেন্টে ৮টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন। এক বিশ্বকাপে তার এই ১২টি গোলে অবদান রাখার কীর্তি গত ৫৬ বছরে যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ। এছাড়া তিনি প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৬টি বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করার অনন্য রেকর্ড ধরে রেখেছেন।

গোলের বন্যা: আর্জেন্টিনা এই আসরে ১৯টি গোল করেছে (ম্যাচ প্রতি গড়ে ২.৭১টি), যা ১৯৭০ সালের ব্রাজিলের পর এক বিশ্বকাপে যেকোনো দলের সর্বোচ্চ।

টানা গোল করার রেকর্ড: কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে ২-১ গোলে হারার পর থেকে আর্জেন্টিনা টানা ১৩টি বিশ্বকাপে ম্যাচে অন্তত দুটি করে গোল করেছে, যা একটি রেকর্ড।

বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শট: আর্জেন্টিনা বক্সের বাইরে থেকে এই টুর্নামেন্টে ৫টি গোল করেছে, যা এক বিশ্বকাপে যৌথভাবে যেকোনো দলের জন্য সর্বোচ্চ।

শতভাগ জয়ের হাতছানি: লিওনেল স্কালোনির দল এই আসরের ৭টি ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে। ফাইনালে জিতলে তারা ২০০২ সালের ব্রাজিলের পর পঞ্চম দল হিসেবে শতভাগ জয়ের রেকর্ড নিয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে। তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণ কিছুটা পরীক্ষার মুখে পড়েছে, তারা গোল খেয়েছে ৭টি।

একদিকে স্পেনের জমাট রক্ষণ আর পাসিংয়ের ফুলঝুরি, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার বিধ্বংসী আক্রমণ আর মেসির জাদুকরী ফর্ম। সব মিলিয়ে এই ফাইনাল ফুটবল ইতিহাসের পাতায় সেরা এক লড়াই হিসেবে জায়গা করে নেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

 

Related Articles

Latest Posts