হাতিয়ায় অতিবর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে জলাবদ্ধতায় ৩০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি

টানা ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ৩০ কোটি ৩৫ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

পৌরসভাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ও বীজতলা পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল বাসেত সবুজ দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে আগাম শাকসবজি ও রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যার অর্থমূল্য ৩০ কোটি ৩৫ লাখ ৭ হাজার ৮৭২ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৩৮ হাজার ৫৬৪ জন। তাদের তালিকা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।’

হাতিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, টানা বর্ষণ ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় উপজেলার ২১ হাজার ৫২০ হেক্টর আউশ ধান, ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আমন বীজতলা, ৯৫০ হেক্টর শরৎকালীন মৌসুমি শাকসবজি, ৫৮ হেক্টর ফল বাগান, ৮ হেক্টর মরিচ ও ১০ হেক্টর পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হাতিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক মো. বাবলুর রহমান জানান, গতকাল রোববার নদী ও সমুদ্র বন্দর থেকে সতর্ক সংকেত তুলে নেওয়া হয়েছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই-তিন দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। তারপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল জানান, টানা বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানিতে পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে ২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ ফুট উঁচু জোয়ার আসায় হাতিয়ার নিম্নাঞ্চল ও বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আশিক কুমার কর বলেন, ‘হাতিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বরাদ্দ চেয়ে অধিদপ্তরে চিঠি লেখা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সাহায্য বিতরণ করা হবে।’

নলচিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বাবলু ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে গোটা ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে।’

বুড়িরচর ইউনিয়নের কালিরচর গ্রামের বাসিন্দা নিজাম চৌধুরী (৬৫) বলেন, ‘১৯৭০ সালের পর এত পানি আর দেখিনি। ডিসি রোড ছাড়া ইউনিয়নের প্রায় সব সড়ক তিন থেকে চার ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। লক্ষাধিক মানুষ খাদ্যসংকট ও অর্থকষ্টে মানবেতর জীবন করছেন।’

নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা আজমির উদ্দিন বলেন, ‘৮১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নিঝুম দ্বীপে কোনো বেড়িবাঁধ নেই। পুরো দ্বীপই পানিতে তলিয়ে গেছে। দ্রুত স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ জরুরি।’

চর ঈশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন আজাদ বলেন, ‘অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলাবাজার এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের আফাজিয়া বাজারসংলগ্ন বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এতে কয়েকশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। পাশাপাশি আমনের বীজতলা তলিয়ে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’

Related Articles

Latest Posts