হতাশাজনক বিশ্বকাপ অভিযানের পর জার্মানি জাতীয় দলকে পুরনো বিধ্বংসী রূপে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভার তুলে দেওয়া হলো ইয়ুর্গেন ক্লপের কাঁধে। চার বছরের চুক্তিতে স্বদেশি এই অভিজ্ঞ ট্যাকটিশিয়ানকে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিল দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি)। শুক্রবার এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে সংস্থাটি তাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করল।
বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও লিভারপুলের সাবেক কোচ ক্লপ স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ইউলিয়ান নাগেলসমানের। সবশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে প্যারাগুয়ের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে জার্মানির বিদায়ের পর দায়িত্ব ছাড়েন নাগেলসমান। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিস্ময়করভাবে বিদায় নেওয়ার পর এবারও ব্যর্থতার সেই ধারা বজায় থেকেছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।
দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বসিত ক্লপ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জাতীয় ফুটবল দলের মতো খুব কম বিষয়ই আমাদের জার্মানদের এক সুতোয় বাঁধতে পারে। আর এই দিকটিই আমার কাছে দায়িত্বটিকে এতটা বিশেষ করে তুলেছে।’
এতদিন রেড বুলের ‘গ্লোবাল হেড অফ সকার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই তারকা কোচ যোগ করেন, ‘বিগত দেড় বছরে রেড বুলে যে অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা আমার হয়েছে এবং (ডিএফবির সঙ্গে) এই চুক্তিটি সম্ভব করতে তারা যে উদারতা দেখিয়েছে, তার জন্য আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। এখন আমি জার্মান ফুটবলের এই বিশেষ দায়িত্বটির দিকে তাকিয়ে আছি, যা আমরা বিনয় ও ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করব। এমন একটি দল গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য, যারা একে অপরের জন্য লড়বে, ফুটবলকে উপভোগ করবে এবং যার পেছনে আমাদের দেশের মানুষ পূর্ণ আস্থা নিয়ে দাঁড়াতে পারবে।’
নতুন দায়িত্বে ক্লপের সহকারী হিসেবে কাজ করবেন পিটার ক্রাভিৎজ, পেপ লিন্ডারস ও জার্মানির সাবেক খেলোয়াড় স্ভেন বেন্ডার। এছাড়া, ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ও সাবেক ডিফেন্ডার পার মার্টেসাকারকে স্পোর্টস ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ডিএফবি। আন্দ্রেয়াস রেটিগের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি সই করেছেন তিনি।
জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বার্নড নয়েনডর্ফ জানান, শুরু থেকেই ফেডারেশনের প্রথম পছন্দ ছিলেন ক্লপ, ‘আমাদের অত্যন্ত নিবিড় আলোচনা হয়েছে। প্রথম থেকেই ক্লপই ছিলেন আমাদের জন্য আদর্শ সমাধান। ডিএফবির সবাই আমরা একমত ছিলাম যে, তিনিই সেই ব্যক্তি যার সঙ্গে আমাদের কথা বলা উচিত। ক্লপের সঙ্গে আলোচনার পর আমাদের এই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে যে, সঠিক সময়ে সঠিক মানুষটিকেই আমরা পেয়েছি।’
