আইসিটির সুষ্ঠু বিচারের মান নিয়ে এইচআরডব্লিউর প্রশ্ন

বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এইচআরডব্লিউ সতর্ক করে বলেছে, ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমে বিদ্যমান ঘাটতি ও সীমাবদ্ধতার কারণে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, যা আইনের শাসনকে দুর্বল করার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অন্যায়ভাবে কারাবন্দী করার ঝুঁকি তৈরি করছে।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সংঘটিত বহু নিপীড়নের জন্য দায়ীদের যথাযথভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। কিন্তু অনেক মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ন্যায্য বিচারের মানদণ্ড পূরণ করছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় জরুরিভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন। দুর্বল ও দায়সারা তদন্ত এবং খেয়ালখুশিমতো অভিযোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার কোনো সুযোগ যাতে না থাকে, তা নতুন সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।’

এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের একদিন আগে সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাজনীতিবিদ, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও দুই সাংবাদিকসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউটররা।

বিজ্ঞপ্তিতে এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক ডজনের বেশি মামলা পর্যালোচনা করে তারা যথাযথ প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে—প্রমাণের ন্যূনতম মানদণ্ড ছাড়াই গ্রেপ্তার, লিখিত কারণ না জানিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রাখা, আসামিপক্ষের আইনজীবীদের ওপর বিধিনিষেধ, বিচারের প্রস্তুতির জন্য সীমিত সময় দেওয়া এবং একাধিক মামলায় সাক্ষীদের জবানবন্দির হুবহু একই অংশ ব্যবহার করা।

২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে মামলা করারও সমালোচনা করেছে সংস্থাটি।

এ ছাড়া, ‘ড. মুহাম্মদ হাসান মাহমুদ চৌধুরী ও অন্যান্য’ মামলার উদাহরণ টেনে এইচআরডব্লিউ জানায়, প্রসিকিউশনের প্রকাশ্যে আনা ৫৫টি সাক্ষীর জবানবন্দির মধ্যে কয়েকটিতে প্রায় হুবহু একই বক্তব্য রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। ওই প্রসিকিউটর পরে পদত্যাগ করেন।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, এ বিষয়ে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।

মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ‘বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে বুঝতে হবে যে, অতীতের নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি তারা করতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘একই সাক্ষ্য নকল করে তৈরি অভিযোগ একটি গ্রহণযোগ্য বিচারপ্রক্রিয়ার অভাবকেই স্পষ্ট করে তোলে। এর ফলে আবারও ভুক্তভোগী, তাদের পরিবার এবং বাংলাদেশের সব মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে।’

Related Articles

Latest Posts