অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে সাংবাদিকদের প্রতি শান্তর প্রশ্ন

প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হবে, সবাই যখন প্রস্তুত তখন বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলে উঠলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়ে আমার একটা প্রশ্ন আছে সবার কাছে। আপনারা অনেক বছর ধরে ক্রিকেটটা কাভার করেন, এই অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়ে আপনারা কী প্রত্যাশা করছেন, দল কেমন করবে?’

একজন বললেন, ‘ভালো খেলা’। শান্তর আবার পাল্টা জিজ্ঞাসা, ‘এই উত্তর আমি দিলে কি খুশি হতেন?’ আরেকজন বললেন, ‘প্রধান নির্বাচক (হাবিবুল বাশার সুমন) যেমনটা বলেছেন সম্মান অর্জন, কাজেই যদি সম্মান অর্জন করে ফিরতে পারেন…।’ এবার বোধহয় উত্তরটা পছন্দ হলো তার।

অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলাটাই বাংলাদেশ দলের কাছে বড় ঘটনা। কারণ এই সুযোগ তো প্রায় দুর্লভ ঘটনার মতো। এর আগে একবারই সেই সুযোগ মিলেছিল। সেই ২০০৩ সালে যখন বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়া সফর করে, তখন আজকের অধিনায়ক শান্ত চার বছরের শিশু!

বাংলাদেশের ক্রিকেটের একাধিক প্রজন্মের ক্যারিয়ারই ফুরিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট না খেলে। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালদের সোনালী প্রজন্মেরই সেই সুযোগ মেলেনি।

এমন পরিস্থিতিতে সিরিজের ফল নিয়ে প্রত্যাশা একটু বাড়াবাড়ি শোনাতে পারে। শান্তও হয়তো প্রত্যাশার জায়গাটা আগে থেকেই বাস্তবতার নিরিখে নামিয়ে রাখতে চাইলেন। ফল কী হবে পরের ব্যাপার, অন্তত প্রতিপক্ষের সমীহ আদায় করে ফিরতে পারার দিকেই মন তার।

অবশ্য ইতিবাচক ফলের চিন্তাও আরেকটু জোর দিয়ে বলার অবস্থা তৈরি হতে পারত, যদি না এতগুলো চোট এসে হানা দিত। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে যিনি হতে পারতেন বাংলাদেশের তাসের ঘরের মূল চালিকাশক্তি, সেই নাহিদ রানাই যে নেই। চোটের কারণে তাকে না পাওয়ায় হাহাকার এদিনও আড়াল হলো না। অন্তত প্রথম টেস্টে শরিফুল ইসলাম, লিটন দাসদের মতো পারফরমারদের না থাকাও বাংলাদেশ দলের জন্য বড় ধাক্কা।

সাকিব-তামিমদের মতো তারকাদের ক্যারিয়ারে যে অপূর্ণতা থেকে গেছে, শান্ত সেখানে পূর্ণতার আলোয় উদ্ভাসিত। অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট তো খেলবেনই, নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশকে। নিজেকে সৌভাগ্যবান মানা বাংলাদেশ অধিনায়কের সব নজর প্রতিপক্ষের সম্মান অর্জনের দিকে, ‘আমি খুবই ভাগ্যবান যে অস্ট্রেলিয়াতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টেস্ট খেলতে পারছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হবে ওখানে ভালো ক্রিকেট খেলে সম্মান অর্জন করা। যদি আমরা ওদের টাফ টাইম দিতে পারি, তবে ভবিষ্যতে আরও বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পাব।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ খেলে আয় হবে না বলে মূল ভেন্যুগুলোতে সিরিজ রাখেনি অস্ট্রেলিয়া। ২৩ বছর পর ডারউইনে আরেকটি টেস্ট হবে, আগেরটিও খেলেছিল বাংলাদেশ। নতুন ভেন্যু হিসেবে অভিষেক হবে ম্যাকাওয়ের।

অস্ট্রেলিয়ার মতো ক্রিকেট জাতি তখনই কাউকে নিজেদের ডেরায় আমন্ত্রণ জানাতে রাজি হয়, যখন দেখে লড়াইয়ের সম্ভাবনা আছে। পারফরম্যান্স দিয়েই অস্ট্রেলিয়াকে বোঝাতে হয়। খেলার ফল যেমনই হোক, আর যেন পরের সফরের জন্য দুই যুগ অপেক্ষা করতে না হয়, এটাই নিশ্চিত করতে চাইবে বাংলাদেশ দল।

 

 

Related Articles

Latest Posts