বর্তমানে মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার এবং বাংলাদেশে অবস্থানরতদের মধ্যে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার।
দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এ তথ্য জানান।
চলতি সপ্তাহের শেষে নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যে আঞ্চলিক নির্বাচন সামনে রেখে বুধবার এক নির্বাচনী সমাবেশে আনোয়ার বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে দুই দেশ এ বিষয়ে আলোচনা করতে পেরেছে।
পৃথক এক অনুষ্ঠানে আনোয়ার বলেন, প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রিত ৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকেও ফেরত নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল সাংবাদিকদের বলেন, শরণার্থীদের খুঁজে বের করা, পরিচয় শনাক্ত করা এবং যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব তার মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে। এরপর ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আনোয়ার বলেন, ‘এ কারণেই মিয়ানমারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।’
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয়েশিয়াকে দীর্ঘদিন ধরে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে দেখা হয়। ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ফলে তারা বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে।
রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের দপ্তর সাড়া দেয়নি। কুয়ালালামপুরে ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ও বৃহস্পতিবার মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
এর আগের দিন বুধবার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এক বিবৃতিতে জানায়, মালয়েশিয়ার সঙ্গে কাজ করতে তারা পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শরণার্থী-সংক্রান্ত নথি দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ না করলে ইউএনএইচসিআরের কার্যক্রম পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হবে বলে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সংস্থাটি এ বিবৃতি দেয়।
