রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর একটি রেস্তোরাঁয় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস এই খবর প্রকাশ করেছে।
দেশটির জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কমিটির বরাত দিয়ে তাস জানিয়েছে, মস্কোর কুদ্রিনস্কায়া স্কয়ারের একটি রেস্তোরাঁয় হাতে তৈরি একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে, এতে তিনজন নিহত হন।
কমিটি আরও জানায়, নিহত তিনজন হলেন—বিস্ফোরকটি বহন করে রেস্তোরাঁয় আসা সেই নারী, তাকে বাধা দেওয়া একজন নিরাপত্তা কর্মী এবং একজন গ্রাহক। আহত ২১ জনের আঘাতের মাত্রা ভিন্ন ভিন্ন (কেউ সামান্য আবার কেউ গুরুতরভাবে আহত)।
রাশিয়া এর আগেও বেশ কয়েকবার সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই যুদ্ধের সমর্থক রুশ সামরিক কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ওপর বেশ কিছু হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এসব হামলার জন্য হয় ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা দায় স্বীকার করেছে, অথবা তাদের দায়ী করা হয়েছে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে একটি গাড়ি বোমা হামলায় সিনিয়র জেনারেল ইয়ারোস্লাভ মোসকালিক নিহত হওয়ার ঘটনায় রাশিয়া ইউক্রেনকে দায়ী করে।
এর আগে, ২০২২ সালের আগস্টে মস্কোর অদূরে নিজের গাড়িতে সংযুক্ত বোমার বিস্ফোরণে নিহত হন পুতিনের ঘনিষ্ঠ আলেকজান্ডার দুগিনের মেয়ে দারিয়া দুগিনা। অনেকের ধারণা, এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিলেন আসলে তার বাবা।
২০২৩ সালের এপ্রিলে সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি ক্যাফেতে ক্রেমলিনপন্থী সামরিক ব্লগার ভ্লাদলেন তাতারস্কি (প্রকৃত নাম ম্যাক্সিম ফোমিন) নিহত হন। তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া একটি ছোট মূর্তির ভেতরে থাকা বোমার বিস্ফোরণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মস্কোর একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকের বাইরে একটি স্কুটারে পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণে রুশ সেনাবাহিনীর রাসায়নিক অস্ত্র শাখার প্রধান জেনারেল ইগর কিরিলভ এবং তার সহকারী নিহত হন।
এ ছাড়া, ২০২৩ সালের মে মাসে নিঝনি নভগোরোদ শহরের কাছে এক গাড়ি বিস্ফোরণে ক্রেমলিনপন্থী লেখক জখার প্রিলেপিন গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনায় অন্য এক ব্যক্তি প্রাণ হারান।
