অভিনয় জগতে দীপা খন্দকারের পথচলা আড়াই দশকেরও বেশি সময়ের। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য নাটক ও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। এই সময়ে কখনো মা, কখনো ফুফু, আবার কখনো স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দারুণভাবে প্রশংসিত হচ্ছেন।
সম্প্রতি ‘সিনেমাওয়ালা’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার হয়েছে দীপা খন্দকার অভিনীত নাটক ‘পথহারা মন’। এই নাটকে তিনি একজন মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এতে তার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান। তার মেয়ের চরিত্রে দেখা গেছে তানজিম সাইয়ারা তটিনীকে।
নাটকটি নিয়ে দীপা খন্দকার বলেন, ‘চেনা-জানা অনেকেই নাটকটি দেখেছেন। কাছের মানুষ কিংবা দূরের মানুষেরাও দেখেছেন। বলতে পারি, অসংখ্য মানুষ এই নাটকটি দেখেছেন এবং তাদের ইতিবাচক মন্তব্যগুলো আরও ভালো কাজ করার জন্য উৎসাহ জোগায়। দর্শকদের কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তারা সবসময়ই ভালো কাজের সঙ্গে আছেন।’
তিনি বলেন, ‘নাটকটি যেদিন প্রচার হয়, সেদিনই রাতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। বিয়ে বাড়িতে কেউ কেউ বলেছেন— “আপনার কান্নাকাটি দেখেই বিয়েবাড়িতে এসেছি। অসাধারণ অভিনয় করেছেন।” এমন মন্তব্য ভীষণ ভালো লাগে। মনে হয় ভালো কিছু করেছি, ভালো গল্প ও ভালো চরিত্রে কাজ করেছি।’
সবসময় কি ইতিবাচক মন্তব্য শুনতে পান, নাকি নেতিবাচক মন্তব্যও শুনতে হয়— এর জবাবে দীপা খন্দকার বলেন, ‘প্রশংসা বেশি শুনি। তবে সমালোচনাও শুনতে হয় মাঝে মাঝে। সমালোচনা শোনা ভালো; তাহলে নিজের অভিনয় সম্পর্কে জানা যায়।’
এই সময়ে এসে অভিনয় নিয়ে চাওয়া কী— জানতে চাইলে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, পারফেক্ট চরিত্র করতে পারছি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, বয়সের সঙ্গে মিলিয়ে, পারফেক্ট চরিত্র করতে পারছি। ২০ বছরের সন্তানের মা হচ্ছি কখনো, আবার কখনো ফুফুর চরিত্র করছি। এখনকার চাওয়া—ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। যত রকম ব্যতিক্রমী চরিত্র আছে তা করতে চাই। ভিন্নতা আনতে চাই।’
আফজাল হোসেনের বিপরীতে গত ঈদে ‘আবার হবে দেখা’ নামে একটি নাটকে অভিনয় করেন দীপা খন্দকার। এটি পরিচালনা করেন চয়নিকা চৌধুরী।
নাটকটি নিয়ে দীপা খন্দকার বলেন, ‘এই নাটকে আমি আফজাল হোসেনের সঙ্গে অভিনয় করেছি। প্রস্তাবটি পাওয়ার পর একটু চমকে যাই। কিন্তু অভিনয় করার সময় ইমোশনাল হয়ে পড়ি। ওইরকম চরিত্র প্রথম করা আমার।’
‘আমার সন্তানকে কখনো দেখতে পারব না’— কথাগুলো বলতে গিয়ে কান্না পাচ্ছিল। ভীষণ ছুঁয়ে যায় শব্দগুলো। আর সহশিল্পী হিসেবে আফজাল হোসেন ভাই ছিলেন, এটা তো আমার জন্য বাড়তি প্রাপ্তি ছিল, বলেন তিনি।
দীপা খন্দকার বলেন, ‘সহশিল্পী যদি ভালো হন, তাহলে অভিনয় করে আনন্দ পাওয়া যায়। সহশিল্পী পারফেক্ট না হলে মন দিয়ে অভিনয় করা যায় না।’
বর্তমানে শুটিং নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন দীপা খন্দকার। বেশ কয়েকটি এক ঘণ্টার নাটকের শুটিং শেষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘রুবেল হাসানের একটি নাটকে নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করেছি। মুহিদুল হাসানের একটি নাটক করেছি, যা কমেডিনির্ভর। চয়নিকা এবং সেলিম রেজার নাটকের কাজ শেষ করেছি।’
দীপা খন্দকার বলেন, ‘সামনে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ধারাবাহিকে কাজ করব। আসলে এই সময়ে এসে শুধুমাত্র ভিন্নতা চাই কাজের মধ্যে। ভালো কাজ করতে চাই।’
