টানা পাঁচটি ফাইনালে খেলা এবং তার চারটিতেই ট্রফি জয়— লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন বর্তমান এই দলটিকে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা হিসেবে বর্ণনা করেছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া।
সবশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজার্সিতে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় আর্জেন্টিনার। তবে দলটির সাম্প্রতিক অর্জনগুলোকে দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন তাপিয়া। এসেইজায় অবস্থিত লিওনেল মেসি ট্রেনিং কমপ্লেক্সে বক্তব্য দেওয়ার সময় আলবিসেলেস্তেদের এই সোনালী প্রজন্মের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি।
মেসির ও তার সতীর্থদের নৈপুণ্যে গত কয়েক বছরে আর্জেন্টিনা একের পর এক ফাইনালে উঠে নজর কেড়েছে। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে তাদের ২৮ বছরের লম্বা ট্রফি খরা কাটার গল্প শুরু হয়। এরপর ২০২২ সালে ইতালিকে হারিয়ে ফিনালিসিমা জয় এবং একই বছর কাতারে ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসে দলটির তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা। ফলে তর্কসাপেক্ষে সর্বকালের সেরা ফুটবলার মেসি পরম আরাধ্য সোনালী ট্রফিটি ছুঁয়ে দেখার স্বাদ নেন।
সাফল্যের এই ধারা বজায় রেখে ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকার ট্রফি উঁচিয়ে ধরে আর্জেন্টিনা। সবশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপে টানা পঞ্চম ফাইনাল খেলে দলটি। যদিও সেখানে স্পেনের কাছে পরাজিত হয়ে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের।
‘এএফএ স্পন্সর ডে’ অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের বন্দনা করে তাপিয়া বলেছেন, ‘পাঁচটি ফাইনালে অংশ নেওয়া এবং চারটিতেই জয়লাভ করা… আমার বিশ্বাস, এটিই আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সর্বকালের সেরা জাতীয় দল। বিশ্বমঞ্চে আমাদের পতাকাকে সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই খেলোয়াড়দের নিয়ে আমরা ভীষণ গর্বিত।’
বক্তব্যে এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়া জয় নিয়েও নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন এএফএ প্রধান। তার দাবি, মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও এই জয়ের পেছনে লুকিয়ে ছিল গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক আবেগ। আর্জেন্টিনার উপকূলে অবস্থিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘটিত ১৯৮২ সালের যুদ্ধে জিতেছিল ইংল্যান্ড। তবে এখনও দ্বীপপুঞ্জটিকে (যাকে তারা মালভিনাস নামে ডাকে) নিজেদের দাবি করে আসছে আর্জেন্টিনা।
বিতর্কিত এই ইস্যু নিয়ে তাপিয়া বলেছেন, ‘ইংল্যান্ডকে হারানোর দিনই আমরা কার্যত বিশ্বকাপ জিতে গিয়েছিলাম। ফুটবলীয় নৈপুণ্যের বাইরেও এই দল এমন কিছু করেছে যা অনেক দিন দেখা যায়নি। তারা মালভিনাস (ফকল্যান্ড) যুদ্ধের সৈনিক ও প্রবীণ যোদ্ধাদের সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছে।’
তিনি যোগ করেছেন, ‘এই বিশ্বকাপের মাধ্যমে তারা মালভিনাস ইস্যুটিকে আবারও বৈশ্বিক কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে পেরেছে। তিনটি ম্যাচে ১২০ মিনিট ধরে (কেপ ভার্দে, সুইজারল্যান্ড ও স্পেন) লড়াই করার সেই মহাকাব্যিক রূপের বাইরেও আমি জানি, প্রতিটি আর্জেন্টাইনের কাছে ইংল্যান্ডকে হারানোটাই ছিল আসল বিশ্বকাপ জয়।’
উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিতের পর হঠাৎই হাতে একটি ব্যানার নিয়ে দর্শকসারির দিকে যেতে দেখা যায় দুই আর্জেন্টাইন ফুটবলার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও জিওভানি লো সেলসোকে। সাদা কাপড়ের ওপর কালো কালিতে ওই ব্যানারে লেখা ছিলো ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’, যার অর্থ দাঁড়ায় ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনারই’।
মাঠে রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শনের ওই ঘটনার অবশ্য তদন্ত করছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এর আগে যুক্তরাজ্য সরকারের শীর্ষ মহল থেকে ফিফার কাছে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি জানানো হয়।
