সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকালে সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে গেছে।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ইউনিক বাসটির পেছনে একটি গাড়ি থেকে ভিডিওটি করা হয়। দুর্ঘটনার চিত্র ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
তিনি বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা ভিডিওটি দিয়েছে। ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা গেছে দুর্ঘটনার সময় কোন গাড়ি কোন অবস্থানে ছিল।’
এতে দেখা যায়, বেঙ্গল পরিবহনের স্লিপার বাসটি নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় ছিল। বাসটি বিপরীত দিক থেকে আসা ইউনিক পরিবহনের বাসকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে খাদে চলে দেয়।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় নিহতদের সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন।
এছাড়া, দুই বাসের আরও অন্তত ২৪ যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ইউনিক পরিবহনের পেছনে থাকা একটি গাড়ির ড্যাশক্যামে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিক পরিবহনের বাসটি কয়েকবার রাস্তার ডানপাশে উঠে এসে ওভারটেক করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে বাম পাশে থাকে।
হঠাৎ সামনে থেকে তীব্র গতিতে বেঙ্গল পরিবহনের স্লিপার বাসটি এসে ইউনিক পরিবহনের বাসের সামনের বামপাশে ধাক্কা দিয়ে বাম দিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে নেমে যায়।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী গণমাধ্যমকে জানান, একটি পিকআপ ভ্যান ওভারটেক করতে গিয়ে রাস্তার ডানদিকে চলে আসে বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি। তারপর তীব্র গতিতে ধাক্কা দেয় ইউনিক পরিবহনের বাসকে।
দুর্ঘটনায় আহত ইউনিক পরিবহনের যাত্রী কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ফারুক মিয়া (৫২) দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তারা ৫ বন্ধু হযরত শাহজালালের (রহ) মাজার জিয়ারত করতে সিলেট গিয়েছিলেন। তাদের দুজন ফ্লাইটে ঢাকা ফিরে যান। আর তিনিসহ বাকি ৩ জন ইউনিক পরিবহনের সকালের বাসে ঢাকার দিকে রওনা দেন।
তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার সময় একটু ঘুমিয়ে ছিলাম, হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে। মানুষজন ধরে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। আমাদের বন্ধু সাইফুল ইসলাম নিহত হয়েছেন।’
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪ জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৫০), সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুর এলাকার জাহাঙ্গীরের মেয়ে ফাইজা (৩), সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২) ও কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার চণ্ডিবের এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে পেহেলী ভৈরবী (১৭)।
নিহত পেহেলী ভৈরবী বাউলশিল্পী ছিলেন। তিনি সিলেটে একটি অনুষ্ঠানে গান গেয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিচিতজনরা।
এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনীর ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে ১৬ জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ইএনটি, চক্ষু বিভাগ ও নিউরো সার্জারি বিভাগে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি জানান, নিউরো সার্জারিতে ভর্তি ৩ জনের মধ্যে একজনের সিটিস্ক্যান রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে, একজনের সিটি স্ক্যান এখনো হয়নি, আরেকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
পরিচালক আরও জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসা ১৬ জনের মধ্যে এক শিশুকে প্রথমে মৃত ঘোষণা করা হয়। এরপর আরেকজন রোগী মারা যান। এর বাইরে বাকি ১৪ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
