ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে যখন বিশ্ব ফুটবলে তীব্র চাপ ও সমালোচনা চলছে, তখন তার পাশে দাঁড়িয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের প্রভাবশালী কয়েকটি মহল। কলম্বিয়া সফরে গিয়ে কনমেবল সভাপতি আলেহান্দ্রো দোমিঙ্গেসসহ দক্ষিণ আমেরিকার একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সমর্থন পেয়েছেন ফিফা প্রধান।
শুক্রবার কলম্বিয়ার কালি শহরে পৌঁছান ইনফান্তিনো। সেখানে দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। কলম্বিয়া ফুটবল ফেডারেশনের প্রকাশিত ছবিতে কনমেবল সভাপতি দোমিঙ্গেস এবং কলম্বিয়া ফেডারেশনের সভাপতি রামোন হেসুরুনের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায় ইনফান্তিনোকে।
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল করার পর থেকেই তীব্র চাপে রয়েছেন ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো। বিশেষ করে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার সঙ্গে তার সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এমনকি পরিকল্পনা বাতিলের পরও বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি থেকে সরে আসেনি উয়েফা।
কলম্বিয়ায় পৌঁছে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও শিশুদের একটি ফুটবল উৎসবে গিয়ে বেশ স্বচ্ছন্দ ছিলেন ইনফান্তিনো। সেখানে তিনি বলেন, ‘এখানে আজ থাকতে পেরে আমি আনন্দিত। ফুটবল আনন্দ, ফুটবল সুখ, ফুটবল ঐক্য।’
এর আগে বৃহস্পতিবার ফিফার একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল কনমেবল। তবে পরদিন ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়ান দোমিঙ্গেস, ‘ইনফান্তিনো যে অসাধারণ কাজ করেছেন, তা উপেক্ষা করা যায় না। আমাদের সংলাপের মাধ্যমে ফুটবলের জন্য কাজ করে যেতে হবে; সব বিষয়ে একমত হওয়া সবসময় প্রয়োজনীয় নয়।’
দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী ফুটবল সংস্থাগুলোর একটি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং প্যারাগুয়ে ইতোমধ্যেই ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এবার সেই তালিকায় যোগ হয়েছে ভেনেজুয়েলা ও ইকুয়েডরও। ফিফার বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর আস্থার কথাও জানিয়েছে ইকুয়েডর।
ইকুয়েডর ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফ্রান্সিসকো এগাস লারেগেতেগুই ইনফান্তিনোকে লেখা চিঠিতে বলেন, ‘আপনার ওপর এবং বর্তমানে ফুটবলের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে। আমরা আমাদের খেলাটির কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।’
ইউরোপে যখন ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, তখন দক্ষিণ আমেরিকার সমর্থন তার জন্য বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে। আগামী মার্চে রাবাতে ফিফা সভাপতি নির্বাচনে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য লড়বেন ইনফান্তিনো। নির্বাচনের আগে মহাদেশভিত্তিক সমর্থনের এই হিসাবই এখন তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
