যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শীর্ষ পাঁচটি দেশের একটি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে করা এসব আবেদনের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যকই অনুমোদন পেয়েছে বলে জানান তিনি।
আজ রোববার রাজধানীতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার এসব কথা বলেন।
যুক্তরাজ্য সরকার ও দেশটির জনগণ আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উল্লেখ করে সারাহ কুক বলেন, ‘আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়াদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেসব প্রত্যাখ্যাত আবেদনকারী স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যান, পুনর্বাসনের জন্য তাদের ৩ হাজার পাউন্ড আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় যাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়, তারা এই সহায়তা পান না।’
শোষণ, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধ, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি এবং নিরাপদ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসন সম্প্রসারণে সহযোগিতার বিষয়গুলো সাক্ষাতে গুরুত্ব পায়।
বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যকে যৌথভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন আরিফুল হক চৌধুরী। দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরি, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত এবং অভিবাসী কর্মীদের অধিকার, মর্যাদা ও সার্বিক কল্যাণ সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজার ও আন্তর্জাতিক মানের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মীদের ইংরেজি ভাষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতাও চান বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রিন স্কিল ও ডিজিটাল স্কিল প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হবে।’
চলমান অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মসংস্থানের পুনরুদ্ধার ও অগ্রগতি (আরএআইএসই) প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে ফিরে আসা অভিবাসী কর্মীদের টেকসই পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী। প্রকল্পটি যুক্তরাজ্য সরকারের ফরেন, কমনওয়েলথ ও ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও), আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বিশ্বব্যাংকের যৌথ অংশীদারত্বে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দেওয়া এবং অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির তদারকির জন্য একটি যৌথ কর্মী দল গঠনেরও প্রস্তাব দেন তিনি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ইউরোপীয় শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কর্মী তৈরি করা সম্ভব হবে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সনদপ্রাপ্ত কর্মীদের পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশে পাঠানো যেতে পারে।’
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের আগ্রহের কথা জানান হাইকমিশনার সারাহ কুক।
বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ, নিয়মিত ও যৌক্তিক খরচে শ্রম অভিবাসন নিশ্চিতের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে অভিবাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
জাতিসংঘ প্রণীত গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশন চুক্তি বাস্তবায়নে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার।
এসময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স কাউন্সেলর রায়ান ডানকানসন ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
