সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া পরীক্ষার্থী ঠেকাতে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণসহ এক ডজন নির্দেশনা দিয়ে সব সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং ডিসিদের কাছে অফিস স্মারক পাঠিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে তাদের অধীন দপ্তর, সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি অবহিত করতে বলা হয়েছে।
সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিম্ন গ্রেডের কয়েকটি পদের নিয়োগ পরীক্ষা, ভাইভা এবং যোগদান-এই তিন ধাপে অভিনব প্রতারণা চিত্র ধরা পড়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চাকরির আবেদনে এক মাসের মধ্যে তোলা রঙিন ছবি ব্যবহার করতে হবে। লিখিত পরীক্ষার আগে প্রার্থীদের আবেদনপত্র ভালোভাবে যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি পরীক্ষার কেন্দ্রে ব্যাগ, বই, ডিভাইস নিতে দেওয়া যাবে না, প্রয়োজনে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের পর কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়া, পরীক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ রাখা, প্রবেশপত্র ও হাজিরা শিটে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারাসহ অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে দেখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মৌখিক পরীক্ষার সময় উত্তরপত্রের সঙ্গে প্রার্থীর হাতের লেখার সাদৃশ্য পরীক্ষা, সম্ভব হলে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি তোলা এবং পরীক্ষার পরবর্তী ধাপে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ছবি মিলিয়ে দেখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত প্রার্থীকে চাকরিতে যোগদানের সময় আগে তুলে রাখা ছবি পরীক্ষা করে যোগদানপত্র দিতে হবে।
নিয়োগ পরীক্ষার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল কোর্ট বা সামারি ট্রায়াল পরিচালনার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হবে। কোনো ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী শনাক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলকভাবে মোবাইল কোর্ট, সামারি ট্রায়াল অথবা নিয়মিত মামলা করতে হবে।
একইসঙ্গে ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহারেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
