গিলক্রিস্টের প্রশংসায় তানজিদের উচ্ছ্বাস

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি করে ইতিহাস গড়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্টেই এমন কীর্তি, তাও অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে। তবে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত এই ইনিংসের পর তানজিদের জন্য অপেক্ষা করছিল আরও দুটি বিশেষ মুহূর্ত, গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে দর্শকদের অভিবাদন এবং ছোটবেলার প্রিয় ক্রিকেটার অ্যাডাম গিলক্রিস্টের কাছ থেকে প্রশংসা।

ডারউনের মারারা স্টেডিয়ামে শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের খেলায় ১৯৭ বলে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তানজিদ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম শতকও তুলে নেন তিনি। তার বিদায়ের সময় গ্যালারিতে থাকা দর্শকেরা দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান বাংলাদেশি ওপেনারকে।

সেই মুহূর্তটিকে টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য হিসেবে দেখছেন তানজিদ। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন পাওয়াটা আসলে অনেক ভালো লাগার একটি জায়গা। খুব ভালো লাগছিল, এটাই হয়তো টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য, যা আজকে অনুভব করেছি।’

তবে দিনের আরেকটি মুহূর্তও তানজিদের কাছে ছিল ভীষণ বিশেষ। তার ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। শুধু সাবেক এই উইকেটকিপার-ব্যাটার প্রশংসাই করেননি, তানজিদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার আগেই তাকে জানিয়েছিলেন যে তার ব্যাটিং তিনি উপভোগ করেছেন।

গিলক্রিস্টের কাছ থেকে এমন প্রশংসা পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই আপ্লুত তানজিদ। কারণ ছোটবেলা থেকেই অস্ট্রেলিয়ার এই কিংবদন্তি ক্রিকেটারের ভক্ত তিনি, ‘অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ছোটবেলা থেকেই আমার পছন্দের একজন খেলোয়াড়। ও যখন আমার ইন্টারভিউ নিচ্ছিল, তার আগে আমাকে বলছিল যে ও আমার ব্যাটিংটা অনেক উপভোগ করেছে। এটা আমার কাছে অনেক ভালো লাগার বিষয়।’

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তানজিদের এই সেঞ্চুরি এসেছে দারুণ ধৈর্য ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে। নতুন বলে অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের বিপক্ষে বাড়তি ঝুঁকি না নিয়ে শট কমিয়ে স্ট্রাইক রোটেট করার চেষ্টা করেছেন তিনি। মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশের ইনিংসকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেন।

শেষ পর্যন্ত ১৮৮ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা তানজিদ থামেন ১৯৭ বলে ১০১ রানে। তার ইনিংসে ছিল ১৩টি চার। এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটারও হয়েছেন তিনি। এর আগে ২০০৬ সালে ফতুল্লায় ১৩৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন শাহরিয়ার নাফিস।

তানজিদের বিদায়ের পর দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে শেষ পর্যন্ত দিনটি বাংলাদেশের দখলেই থাকে। দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান করেছে সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে লিড এখন ১৫৩ রান।
 

Related Articles

Latest Posts