কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে গত সোমবার সকালে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৯৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
আহতের সংখ্যা প্রায় চার হাজার।
ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশটি। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা বাণিজ্য শুল্ক স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।
আজ রোববার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
গত সপ্তাহে ৩৭ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর উদ্ধার পান দানিয়েলা লারগো (৩২)। জীবিত উদ্ধার হলেও গতকাল শনিবার মারা গেছেন তিনি।
ভূমিকম্পের পর ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে আর কাউকে জীবিত খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে। তা সত্ত্বেও এখনো নিখোঁজ থাকা অন্তত ৩২০ জনের জন্য খোঁজাখুঁজি অব্যাহত রেখেছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।
উদ্ধারকারীরা ধসে পড়া ভবনের ছাদ ও দেয়ালের বড় বড় অংশ সরাতে ভারী যন্ত্র নিয়ে এসেছেন।
দমকল বাহিনীর কর্মকর্তা হাভিয়ের জিমেনেজ এএফপিকে বলেন, ‘শেষ ব্যক্তিটিকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত আমরা এখানে থাকব।’
গত ৭ আগস্ট কলম্বিয়ার ক্ষমতা গ্রহণ করেন নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা।
জয়লাভের পর তাকে অভিনন্দন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসপ্রিয়েলার নির্বাচনী প্রচারণায় সমর্থন জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।
শনিবার দে লা এসপ্রিয়েলা জানান, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ১০ মিনিটের বন্ধুত্বপূর্ণ ফোন কলে অংশ নিয়েছেন।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি ট্রাম্পের কাছে অনুরোধ করেছেন, যাতে তার দেশের পণ্য রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়।
বিশেষত, ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি থেকে ঘুরে না দাঁড়ানো পর্যন্ত তিনি এই সুবিধা দেওয়ার অনুরোধ জানান।
জুলাই মাসের শেষের দিকে কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ থেকে শুল্ক বাড়িয়ে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ করেন ট্রাম্প।
তবে কফি ও তেলের মতো কিছু পণ্যে ছাড় দেয় ওয়াশিংটন।
দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, ‘শুল্ক স্থগিত করা হলে আমাদের ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। ভূমিকম্পের কারণে তারা বড় ধরনের দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।’
তিনি ২৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দলকে দেওয়া সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অশেষ ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি, উদ্ধারকারী দল ও মানবিক সহায়তা পাঠানোর জন্য ইসরায়েলকেও ধন্যবাদ দেন কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট।
ভূমিকম্পে ১৪ হাজারেরও বেশি বাড়ি ধসে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে কালি, পেরেইরা ও মানিজালেস শহরের বাসিন্দারা। এসব শহরের পুনর্গঠনে লাখো ডলার খরচ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশে অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা জারি করার পরিকল্পনা করছেন দে লা এসপ্রিয়েলা।
লাতিন আমেরিকার দেশটির আইন অনুযায়ী, জরুরি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন না নিয়েই কর আরোপ ও বাজেটের পুনর্বিন্যাস করার ক্ষমতা পান।
