আমি এই ম্যাচ কখনোই ভুলব না: মিরাজ

মেহেদী হাসান মিরাজ বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অনেক বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তবে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের মতো খুব কম ম্যাচই হয়তো তার স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে। ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর এই অলরাউন্ডার তা স্বীকারও করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এটি এমন একটি ম্যাচ, যা তিনি কখনোই ভুলতে পারবেন না।

রোববার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ পেয়েছে মহাকাব্যিক জয়ের স্বাদ। ম্যাচজুড়ে ছড়ি ঘুরিয়ে মাত্র সাড়ে তিন দিনের মধ্যে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। যা কারও কল্পনাতেও ছিল না, সেটাই বাস্তবে রূপ দিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সফরকারীরা এগিয়ে গেছে ১-০ ব্যবধানে।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের স্মরণীয়তম জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম ট্রিপল এম রেডিওকে মিরাজ বলেছেন, ‘আমি মনে করি, এখানকার কন্ডিশন বিবেচনায় এই জয়টা খুবই স্পেশাল। এই ম্যাচ আমি কখনোই ভুলব না। কারণ অস্ট্রেলিয়া অনেক ভালো একটি দল, বিশ্বমানের দল। তারা দারুণ খেলছে এবং এর মাঝেই আমি ৫ উইকেট নিয়েছি। আমি এই ম্যাচ কখনোই ভুলব না।’

বাংলাদেশের এই অতুলনীয় নৈপুণ্যের কেন্দ্রে ছিলেন মিরাজ। তিনি প্রথম ইনিংসে ৬৫ রান করে টাইগারদের ২২৮ রানের বিশাল লিড পাইয়ে দিতে মূল্যবান অবদান রাখেন। এরপর ছন্দ ধরে রেখে অজিদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট তুলে নেন। এতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রথম টেস্ট জয়ের পথ চওড়া হয়। ৫৭ রানের মামুলি লক্ষ্য চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে অনায়াসে মিলিয়ে ফেলে তারা।

মিরাজ যদিও জোর দিয়ে বলেছেন, এই রূপকথাময় ফল সম্পূর্ণ দলীয় প্রচেষ্টারই ফসল, ‘আমার মনে হয়, প্রথম ইনিংসে (ব্যাটে ও বলে) ছেলেরা খুব ভালো খেলেছে। হাসান (মাহমুদ) দারুণ বোলিং করেছে। প্রথম ইনিংসে সে ৬ উইকেট পেয়েছে।’

প্রথম দিনে হাসানের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং বাংলাদেশকে সুর বেঁধে দেয়। তিনি ৫৫ রান খরচায় শিকার করেন ৬ উইকেট। তার তোপে অস্ট্রেলিয়া ১৯৮ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর টাইগাররা ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। প্রথম ইনিংসে পাওয়া এই বিশাল লিডের সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগায় তারা। তাই অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনের ১০৪ রান কেবল ম্যাচের দৈর্ঘ্যই বাড়ায়।

ব্যাটিং ইউনিটেরও প্রশংসা করতে কোনো কার্পণ্য করেননি মিরাজ। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করা তানজিদ হাসান তামিমের পাশাপাশি অধিনায়ক শান্ত, মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলামের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি, ‘তানজিদ শুরু থেকেই দারুণ খেলেছে। আর আমার মনে হয়, সাদমান ও মুমিনুল দায়িত্ব নিয়ে খেলেছে। আর অধিনায়কও খুব ভালো কাজ করেছে।’

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪০০ পার করতে মিরাজের পাশাপাশি লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররা বড় ভূমিকা রাখেন। তাদেরকেও কৃতিত্ব দিয়েছেন তিনি, ‘শেষদিকে ছোট ছোট জুটি হয়েছিল। তবে হাসান, তাসকিন (আহমেদ) ও তাইজুল (ইসলাম) আমাকে রান করার সুযোগ করে দিয়েছে। তা না হলে, তারা সমর্থন না দিলে আমি রান করতে পারতাম না।’

তবে মিরাজের কাছে এই জয়ের তাৎপর্য তার ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়েও অনেক বেশি, ‘ম্যাচ জুড়েই আমাদের অনেক ইতিবাচক দিক ছিল।’

Related Articles

Latest Posts