ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে ঐতিহাসিক হারের ধাক্কার পর নতুন বিপাকে পড়তে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। ধীরগতির ওভার রেটের কারণে তাদেরকে শাস্তি দিতে পারে ক্রিকেটের শীর্ষ সংস্থা আইসিসি। বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্ট কাটা পড়ার শঙ্কায় রয়েছে প্যাট কামিন্সের দল।
সিরিজের প্রথম টেস্টে মারারা স্টেডিয়ামে গতকাল রোববার বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হেরেছে স্বাগতিক অজিরা। তাদের দেওয়া ৫৭ রানের মামুলি লক্ষ্য চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনেই মিলিয়ে ফেলে টাইগাররা। এবার অস্ট্রেলিয়ার দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বোলিংয়ের সময় নির্ধারিত ওভার শেষ করতে না পারায়।
এই টেস্টের দ্বিতীয় দিনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো ৯০ ওভার বোলিং করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। তাদের ওভার রেট ছিল ধীরগতির। তারা ৮৬ ওভার বোলিং করায় ঘাটতি ছিল ৪ ওভারের। সেদিন বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৪ ওভারে ১ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে খেলতে নেমে দিন শেষ করেছিল ১১০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৫১ রানে।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ওভারের ঘাটতির জন্য ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ হারে জরিমানা করা হয়। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই নিয়মে শাস্তির মুখে পড়তে পারে কামিন্সবাহিনী।
প্রতিটি টেস্টের জন্য অজি ক্রিকেটাররা ২০ হাজার ডলার ম্যাচ ফি পান। ফলে ৪ ওভার কম করার কারণে একাদশের ১১ জনের প্রত্যেককে ৪ হাজার ডলার করে জরিমানা গুণতে হতে পারে। অর্থাৎ মোট ৪৪ হাজার ডলার জরিমানার শঙ্কায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া দল।
এখানেই শেষ নয়। ধীরগতির ওভার রেটের কারণে ৪ ওভারের জন্য বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকা থেকেও কাটা যেতে পারে ৪ পয়েন্ট। বর্তমানে ৮৪ পয়েন্ট ও ৭৭.৭৮ শতাংশ জয় নিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রের শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশও ওভার রেটে পিছিয়ে ছিল। তবে প্রতিপক্ষকে মাত্র ৫৩ ওভারে অলআউট করায় তারা শাস্তির হাত থেকে বেঁচে গেছে। কারণ আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ ৮০ ওভারের কম ব্যাট করলে কিংবা দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৬০ ওভারের আগে অলআউট হলে ধীরগতির ওভার রেটের নিয়ম প্রযোজ্য হয় না।
তবে অস্ট্রেলিয়াকে শাস্তি দেওয়ার আগে তীব্র গরম ও বারবার উইকেট পতনের বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন ম্যাচ রেফারি। এরপর আসবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
২০২০ সালের মেলবোর্ন টেস্টে ধীরগতির ওভার রেটের কারণে ৪ পয়েন্ট কাটা পড়েছিল অস্ট্রেলিয়ার। এর খেসারত হিসেবে ২০২১ সালের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছিল তারা।
