৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল চেয়ে করা রিট আবেদন খারিজ

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ ও আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত

সেইসঙ্গে আদালত বলেছেন, সংবিধান সংশোধন বিষয়ক গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি ৭০ অনুচ্ছেদ তথা সংবিধান সংশোধন বিষয়ক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের তফসিল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী আইনগতভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। রিট আবেদনটির কোনো ভিত্তি নেই বলেও জানান আদালত।

হাইকোর্টের আদেশের পর আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

গতকাল রিট আবেদনটির ওপর শুনানির সময় অ্যাটর্নি জেনারেল এর তীব্র বিরোধিতা করে তা খারিজের আবেদন জানান। তিনি বলেন, আবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, রিট আবেদনকারী আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ এর আগে একই ধরনের একটি আবেদন হাইকোর্টে করেছিলেন, যা আদালত খারিজ করে দিয়েছিলেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আকন্দ কোনো আপিল করেননি বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, রিট আবেদনকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ আদালতে যুক্তি দেন, ৭০ অনুচ্ছেদ সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ সীমিত করে। এতে সংসদের স্বাধীনতাও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

গত ১৩ আগস্ট জনস্বার্থে তিনি সবশেষ রিট আবেদনটি করেন। এতে ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

আবেদনে ৭০ অনুচ্ছেদকে কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করা হবে না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি রুল জারির আবেদন করা হয়েছিল।

এছাড়া রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিলের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য যে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে।

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর হাইকোর্টের আদেশের বিস্তারিত জানা যাবে।

Related Articles

Latest Posts