ম্যাকাইতে শেষটা ছিলো হতাশায় মোড়ানো। দুই দিনেই নাস্তানাবুদ হয়ে হজম করতে হয়েছে বিব্রতকর হার। তবে তাতে ডারউইনে আগের টেস্টের ঐতিহাসিক সাফল্য আড়াল হচ্ছে না। সেই জয়ে অজিদের সঙ্গে সিরিজ ড্রয়ের গৌরব এসেছে। অস্ট্রেলিয়া এমন সফরকে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের বার্তা হিসেবে দেখছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।
সোমবার ম্যাকাইতে গণমাধ্যমের সামনে এসে বিশ্বমঞ্চে সম্মান অর্জনের কথাও বলেন হাবিবুল। প্রধান নির্বাচক মনে করেন, এই সিরিজের মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্যের একটি স্পষ্ট ‘বার্তা’ দিতে পেরেছে বাংলাদেশ , ‘আমি এখনই বলব না যে আমরা একদম খুব ভালো টেস্ট দল হয়ে গিয়েছি, আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে। কিন্তু আমরা কিন্তু এখন নিজেদের একটা বার্তা দিতে পেরেছি। শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়া টেস্ট নয়, আপনি যদি আমাদের আগের টেস্ট ম্যাচগুলি দেখেন পাকিস্তানের সাথে বা তার আগের টেস্টগুলি যদি খেয়াল করে দেখেন—আমরা কিন্তু টেস্ট এখন নিয়মিত জিতছি। আপনি যদি পরিসংখ্যান দেখেন ২০০০ সাল থেকে এবং এই লাস্ট দুই বছরের পরিসংখ্যান দেখেন, আপনাকে বলতে হবে বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ট্রফি ও র্যাঙ্কিংয়ের চেয়ে বড় অর্জন বিশ্বমঞ্চের সম্মান।’
সিরিজ শেষে ট্রফি হাতে পাওয়ার পাশাপাশি আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের ৬ নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। তবে বাশারের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি পুরো বিশ্বের কাছ থেকে পাওয়া স্বীকৃতি। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই অনেক বড় অর্জন। শুধু আমাদের জন্য না, পুরো বিশ্বে যারা বাংলাদেশ ক্রিকেট অনুরসণ করেন তারাও বাংলাদেশের এই অর্জনকে অনেক উপরের দিকে দেখছে। আমরা আসার আগে বলেছিলাম যে আমরা যখন দেশে ফিরে যাবো, একটা রেসপেক্ট নিয়ে যেতে চাই। আমার মনে হয় সেটা নিয়ে আমরা দেশে ফিরতে পারছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘সাধারণ অস্ট্রেলিয়ানরা ডারউইন থেকে শুরু করে সবখানে আমাদের অভিনন্দন জানিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা ডেফিনেটলি তারা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এখন অন্য চোখে দেখছে। দে নোজ যে বাংলাদেশ ক্রিকেট সবাইকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় অ্যাচিভমেন্ট, অনেক বড় পাওনা।’
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লাল বলের লড়াই শেষ হলেও সামনে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসাইনমেন্ট অপেক্ষা করছে টাইগারদের জন্য। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রসঙ্গে টানতে গিয়ে প্রধান নির্বাচক জানান, ‘আমরা এখন খুব ভালো অবস্থায় আছি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে। আমাদের সামনের ৫টা টেস্ট ম্যাচ আছে যেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য। তো দেখা যাক সেটা কী হয়।’
সফরের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বাশার জানান, ২০০৩ সালে খেলোয়াড় হিসেবে তিনি অস্ট্রেলিয়া সফর করেছিলেন, আর এবার এলেন প্রধান নির্বাচক হিসেবে। ক্রিকেট লিজেন্ডদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া এই মূল্যায়নকে নিজের জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা।
