যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের নন-ইমিগ্র্যান্ট বা অস্থায়ী ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, যেসব বিদেশি নাগরিক পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসায় স্বল্প সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এসে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তাদের শনাক্ত করতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। এসব ব্যক্তির অস্থায়ী ভিসা বাতিল করা হবে।
এই প্রক্রিয়ায় কতজনের ভিসা বাতিল করা হবে, তা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) পররাষ্ট্র দপ্তরের নথিপত্র এবং দুজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই সংখ্যা দুই লাখ পর্যন্ত হতে পারে। মূলত ব্যবসা ও পর্যটন ভিসায় আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে।
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এটাই হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা।
এপির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা বি-১ ও বি-২ ভিসা নিয়ে যারা ইতিমধ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা করছেন, তাদের ভিসা বাতিল করা হবে। সাধারণত ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য বি-১ ও বি-২ ভিসা দেওয়া হয়।
তবে ভিসা বাতিল হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হবে। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাদের আশ্রয়ের আবেদন বিবেচনাধীন রয়েছে, তাদের নতুন কোনো ক্যাটাগরিতে ফেলা হতে পারে।
এর আগে সোমবার মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ এক্সে (সাবেক টুইটার) অভিযোগ করে বলেন, আমেরিকার অভিবাসন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনে ভারাক্রান্ত হয়ে আছে।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তার প্রশাসন বৈধ অভিবাসনকেও কঠিন করে তুলেছে। নির্দিষ্ট কিছু ওয়ার্ক ভিসার ক্ষেত্রে আবেদন ফি ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে।
