ঢাকার সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের চাকুলিয়া গ্রামের কাজী জাবের আল-জাহাঙ্গীরের বাড়িতে আগামী ২৬ ও ২৭ আগস্ট শর্তসাপেক্ষে ওরস আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউএনও বলেন, ঘরোয়া পরিবেশে ওরসের আয়োজন হওয়ায় এ জন্য আলাদা অনুমতির প্রয়োজন নেই। তবে ওরস আয়োজন নিয়ে একটি পক্ষ আপত্তি জানালে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছে।
তিনি বলেন, ‘আয়োজকদের কিছু নির্দেশনা ও শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নামাজের সময় উচ্চ শব্দে মাইক না বাজানো এবং ওরসে এমন কোনো বক্তব্য না দেওয়া, যাতে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। আয়োজকেরা প্রশাসনের দেওয়া নির্দেশনা ও শর্ত মেনেই ওরস আয়োজন করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।’
অন্যদিকে যারা ওরস আয়োজনে আপত্তি জানিয়েছেন, তাদেরও শান্ত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওরস কিংবা এতে অংশ নিতে আসা কোনো অতিথি বা ভক্তকে বাধা না দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আগামীকাল থেকেই ওই এলাকায় পুলিশ সদস্যরা থাকবেন। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নিয়োজিত থাকবেন।’
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, ‘ওরস আয়োজনের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। উভয় পক্ষের সঙ্গে পুলিশের কথা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে কোনো সমস্যা হবে না বলে মনে হচ্ছে।’
এর আগে রোববার ওরস বন্ধের দাবিতে সাভার উপজেলা প্রশাসন কার্যালয় ও থানায় বিক্ষোভ করেন ধর্মীয় নেতা ও তৌহিদি জনতার প্রতিনিধিরা। ওরসে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়া হয়, এমন অভিযোগ তুলে তারা উপজেলা প্রশাসন, সাভার থানা ও কয়েকটি দপ্তরে স্মারকলিপি দেন।
অভিযোগপত্রে সইকারীদের মধ্যে রয়েছেন, চাকুলিয়ার পীর তৈয়বুর রহমান খান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, হেফাজতে ইসলাম ঢাকা জেলা উত্তর শাখার আমির আলী আকবর কাসেমী, সাধারণ সম্পাদক আলী আজম, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম কাসেমী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সাভার থানা শাখার সভাপতি আলী আশরাফ তৈয়ব, সাভার থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ মো. আবুল খায়ের বেপারী, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইদুল ইবনে হাসিব সোহেল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী আমিনুল ইসলাম আমিন এবং সাভার থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী মোহাম্মদ মঞ্জু মোল্লা।
স্মারকলিপিতে কাজী জাবের আল-জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপও চাওয়া হয়। আগামী ২৫ থেকে ২৭ আগস্ট জাবের আল-জাহাঙ্গীরের বাড়িতে অনুষ্ঠেয় ওরস বন্ধ এবং তৌহিদি জনতার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাজী জাবের আল-জাহাঙ্গীর।
এর আগে, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর চাকুলিয়া এলাকায় শাহ্ সুফি সৈয়দ মাওলানা কাজী আফসার উদ্দিন আল জাহাঙ্গীর আল সুরেশ্বরীর মাজার এবং তার ছেলে সুফি সাধক কাজী জাবের আহমেদের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৪ অক্টোবর কাজী জাবেরের ভাই কাজী গোলাম রসুল সাভার মডেল থানায় মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ‘তৌহিদি জনতা’র নামে প্রায় ৫০০ জন লাঠিসোঁটা, রামদা, কুঠার, লোহার পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে আসবাবপত্র, জানালার কাঁচসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সময় দুটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেওয়া এবং প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগও করা হয়।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা বাড়িতে থাকা মাওলানা আফসার উদ্দিনের মাজারে ভাঙচুরের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে সেনাবাহিনী ও সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই ঘটনায় ২০ থেকে ২৫ জন আহত হন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
