২০০৮-০৯ মৌসুমের পর—দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইউরোপীয় ফুটবলের সেরা মঞ্চ চ্যাম্পিয়নস লিগের মূল পর্বে ফিরল ফেনারবাচে। তবে লিয়ঁর বিপক্ষে ২-১ গোলের রোমাঞ্চকর এই ঐতিহাসিক জয়ের দিনেও আনন্দের মুহূর্ত বিষাদে রূপ নেয় ম্যাচ শেষের অনাকাঙ্ক্ষিত হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খলায়।
দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে মূল পর্ব নিশ্চিত করে তুর্কি ক্লাবটি। দ্বিতীয় লেগে ফেনারবাচের হয়ে গোল দুটি করেন বেদাত মুরিচি ও আর্চি ব্রাউন। অন্যদিকে লিয়ঁর হয়ে দ্বিতীয় অর্ধে মালিক ফোফানার গোলটি কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে, ফরাসি ক্লাবটির বিদায় ঠেকাতে পারেনি।
শেষ বাঁশি বাজার পরপরই পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। উভয় দলের খেলোয়াড় ও স্টাফরা মাঠে এবং পরবর্তীতে টানেলের ভেতরে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।
একটি ভিডিও চিত্রে ফেনারবাচের এক খেলোয়াড়কে মাঠের পাশের ক্যামেরায় লিয়ঁর প্রতিদ্বন্দ্বী দল মার্সেইয়ের সমর্থনে উদযাপনী স্লোগান দিতে দেখা যায়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, লিয়ঁর জার্সি পরা এক ব্যক্তি টানেলের দিকে যাওয়ার সময় তুর্কি ক্লাবের এক খেলোয়াড়ের মুখোমুখি হন। মুহূর্তেই খেলোয়াড়, ক্লাব স্টাফ ও নিরাপত্তা কর্মীদের অংশগ্রহণে নতুন করে সংঘর্ষ লেগে যায়।
ম্যাচ শেষে উক্ত ফরাসি ফুটবলার জানান, খেলা চলাকালে পুরো সময় জুড়েই প্রতিপক্ষের সমর্থকদের কাছ থেকে গালিগালাজের শিকার হতে হয়েছে তাকে।
তিনি বলেন, ‘দর্শকদের আচরণে আমি চরম অপমানিত বোধ করেছি। তারা আমার পরিবার তুলে গালি দিচ্ছিল। জয়ের পর যদি আমরা নিজেদের মতো করে উদযাপনই করতে না পারি, তবে সেটা সত্যিই হতাশাজনক।’
ফেনারবাচে কোচ ইসমাইল কার্তাল অবশ্য তার ফুটবলারদের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। তিনি জানান, ম্যাচ-পরবর্তী সেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পুরো দল একসঙ্গে অবস্থান নিয়েছিল।
কার্তাল বলেন, ‘একটি দল হিসেবে আমরা সবাই সবার পাশে দাঁড়িয়েছি, সবাইকে সব ধরনের সমর্থন দেওয়া হয়েছে। দলবদ্ধভাবে কাজ করা বলতে তো এটিই বোঝায়।’
বৃহস্পতিবার মোনাকোতে অনুষ্ঠিত হবে ৩৬ দলের চ্যাম্পিয়নস লিগ মূল পর্বের ড্র, যেখানে দীর্ঘ ১৭ বছর পর তুরস্কের এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের নাম আবার দেখা যাবে।
