তিব্বতে বন্যা ও ভূমিধস নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিল চীন

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সূত্রপাত কীভাবে ঘটেছিল, বিষয়টি নিয়ে প্রথমবারের মতো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে চীন।

দেশটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতে একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ার পর সৃষ্ট ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপ দ্রুত নেমে এসে সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

দুর্যোগটির শুরু যেভাবে, চীনা এক বিশেষজ্ঞের বরাতে আজ রোববার সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস তার একটি বিস্তারিত সময়ক্রম তুলে ধরেছে।

চীনের সায়েন্স একাডেমির মাউন্টেন হ্যাজার্ডস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সু পেংচেং বলেন, রিমোট-সেন্সিং ডেটা ও ঘটনাস্থলের বিশ্লেষণ থেকে জানা গেছে—স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতের প্রায় ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ে। 

How did a mudslide hit Gyirong Port on the China-Nepal border in southwest China’s Xizang Autonomous Region? pic.twitter.com/03FwjncUUz

— China Xinhua News (@XHNews) August 29, 2026

বরফের ওই অংশ প্রায় ৪ হাজার ফুট নিচে পড়ে এবং পাহাড়ের ঢাল ক্ষয় করতে থাকে। এর ফলে একটি বিশাল ভূমিধস সৃষ্টি হয় বলে জানান অধ্যাপক সু।

পরে ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপটি ৭ মিনিটে প্রায় ১৩ মাইল পথ অতিক্রম করে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের স্থলবন্দর গিরং বন্দরে আঘাত হানে।

অধ্যাপক সু বলেন, ‘এতে প্রায় ১৭২ একর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সীমান্ত চৌকির ২৭টি ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে।’

As a mudslide struck Gyirong Port, border police officer Huang Peng remained at his post, guiding people to evacuate to safety. #GyirongPort #Xizang #ChinaNepal #Rescue #SearchAndRescue pic.twitter.com/sPQvsFC6YW

— China Xinhua News (@XHNews) August 29, 2026

প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্যা ও ভূমিধস আঘাত হানার ৫০ ঘণ্টারও বেশি সময় পর শুক্রবার বিকেলে চীনের উদ্ধারকর্মীরা সীমান্ত চৌকিতে পৌঁছান। সড়ক ধ্বংস, বৃষ্টিপাত এবং নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধার কাজ কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানায় চীন।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে তিব্বত অংশে ২৩ দেশের ২৬০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীন।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা সিনহুয়ার বরাতে সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।

সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নেপালের ১০৪ জন। এছাড়া ভারতের ৪৯ জন, লাটভিয়ার ৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন এবং যুক্তরাজ্যের ১৫ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।

তিব্বতে এখন পর্যন্ত ১৬ জন মারা গেছেন এবং মোট ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে সিনহুয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে ভয়াবহ বন্যার পর সীমান্তের তিব্বত অংশে দুর্যোগে আটকে পড়া বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে বিস্তারিত তথ্য।

বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যা ও ভূমিধসের পর ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে খুব কম তথ্য প্রকাশ করেছে চীন।

দুর্গত তিব্বত এলাকায় বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশ সীমিত থাকায় সেখানে দুর্যোগের প্রকৃত চিত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন বলে জানায় নিউইয়র্ক টাইমস।

Related Articles

Latest Posts