নতুন ক্লাবে যোগ দেওয়ার চার ঘণ্টাও পেরোয়নি। অথচ এর মধ্যেই মাঠে নেমে পড়তে হলো এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে। সেটিও আবার চেলসির হয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে। ম্যাচে দারুণ কিছু সেভও করেছেন এই আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত দল জয় পেয়েছে, তবে মার্তিনেজকে হজম করতে হয়েছে তিন গোল।
রোববার ব্রাইটনের বিপক্ষে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ৪-৩ গোলের জয় পেয়েছে চেলসি। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও আলাদা করে আলোচনায় উঠে এসেছেন মার্তিনেজ। সংখ্যাটা তাই তার অভিষেককে নিখুঁত বলার সুযোগ দিচ্ছে না। কিন্তু ম্যাচের পারফরম্যান্স বলছে, চেলসির গোলপোস্টে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হয়তো খুঁজে পেয়েছে নতুন কোচ জাবি আলোনসোর দল।
মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ৭.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে তার দলবদল আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পরই আলোনসো তাকে সরাসরি একাদশে রাখেন। নতুন ক্লাবে প্রথম দিনেই এমন আস্থার প্রতিদান দেওয়ার চাপটা কম ছিল না আর্জেন্টাইন গোলরক্ষকের ওপর।
স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ম্যাচের শুরু থেকেই সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনও ছিল চোখে পড়ার মতো। তার প্রতিটি ক্যাচে গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষকও বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিন গোল হজম করলেও অন্তত দুটি গোলের ক্ষেত্রে তাকে সরাসরি দায়ী করা কঠিন।
বরং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন মার্তিনেজ। ব্রাইটনের দ্বিতীয় গোলের আগে দিয়েগো গোমেজের শট দারুণ ডাইভে ঠেকিয়ে দেন তিনি। পরে অলিভিয়ের বোসকাগলির প্রচেষ্টাও রুখে দেন। এমনকি ম্যাচের শেষদিকে ব্রাইটন আরও একটি গোল করে সমতা ফেরানোর সুযোগ তৈরি করেছিল, সেটিও আটকে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।
তার তিন গোল হজমের গল্পটাও কিছুটা ভিন্ন। প্রথম গোলের আগে চার্লামপোস কোস্তুলাসকে আটকাতে গোললাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসে ভালোভাবেই বিপদ সামলেছিলেন মার্তিনেজ। কিন্তু তার প্রতিহত করা বল গিয়ে পড়ে মালিক ইয়ালকুয়ের পায়ে। সেই সুযোগ থেকে গোল করেন ব্রাইটনের ফরোয়ার্ড।
দ্বিতীয় গোলেও ভাগ্য খুব একটা সহায় ছিল না তার। পাসকাল গ্রসের শট জোয়াও পেদ্রোর গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করায় বল চলে যায় মার্তিনেজের নাগালের বাইরে। আর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গ্রসের হেডে তৃতীয় গোলটি হজম করেন তিনি।
অর্থাৎ তিন গোল খেয়েও মার্তিনেজের অভিষেককে ব্যর্থ বলার মতো পারফরম্যান্স ছিল না। বরং চেলসির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি এসেছে অন্য জায়গা থেকে, দীর্ঘদিন পর গোলপোস্টের নিচে একজন অভিজ্ঞ, আত্মবিশ্বাসী এবং বড় ম্যাচের চাপ সামলাতে অভ্যস্ত গোলরক্ষককে পাওয়া গেছে।
তবে মার্তিনেজকে ঘিরে চেলসির স্বস্তি কেবল গোলরক্ষকের জায়গাতেই সীমাবদ্ধ নয়। আক্রমণভাগেও আলোনসোর দল শুরু থেকেই আগ্রাসী। ব্রাইটনের বিপক্ষে রোমিও লাভিয়া, পেদ্রো নেতো ও কোল পালমারের গোলে দলটি একসময় ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল। পরে ব্রাইটন আরও দুই গোল করে ম্যাচ জমিয়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত জয় হাতছাড়া করেনি চেলসি।
