ঢাবির ৩ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিরোধিতার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আজ মঙ্গলবার ঢাবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুন্সী শামস উদ্দিন আহম্মদ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া তিন শিক্ষক হলেন—শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এম ওয়াহিদুজ্জামান, অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

রেজিস্ট্রার মুন্সী শামস উদ্দিন বলেন, গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানি ও ন্যায্য প্রক্রিয়ার সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ করেন।

জানতে চাইলে অধ্যাপক মশিউর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য—প্রগতিশীল মতাদর্শের শিক্ষকদের দমন করা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় উসকানি দেওয়া বা হামলার কোনো নির্দেশকে সমর্থন করার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

টকশোতে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কথা বলার অভিযোগও অস্বীকার করেন মশিউর রহমান।

তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তারা যদি কোনো প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে আমি নিজেই পদত্যাগ করব।

জানতে চাইলে অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তকে ‘চরম অবিচার, মিথ্যাচার ও স্বেচ্ছাচারিতা’ বলে অভিহিত করেন।

ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, আমার সাক্ষী উপস্থাপন ও আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তিদের জেরা করার অধিকার ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে সে সুযোগ দেয়নি।

‘আমি এই সুযোগ চেয়েছিলাম, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে ডাকেনি। বারবার চিঠি পাঠিয়েও শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ পাইনি। বাংলাদেশের নিপীড়িত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই’, বলেন তিনি।

অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, আন্দোলনের সময় আমি সহকারী প্রক্টর ছিলাম। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছিলাম। পুলিশ যখন শিক্ষার্থীদের আটক করত, তখন আমি সেখানে গিয়ে তাদের মুক্তির ব্যবস্থা করতাম।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

Related Articles

Latest Posts