দুঃস্বপ্নমঞ্চে আটক পাকিস্তান, নাটক জমে ক্ষীর

পুরো ব্যাপারটা দেখে মনে হচ্ছে, কোনো এক অতি উৎসাহী নাটক নির্দেশক ক্রিকেট ম্যাচ আর মঞ্চনাটককে গুলিয়ে ফেলেছেন। প্রতিটা দৃশ্যের মাঝখানে কিছু মিনিটের বিরতি থাকে। ইনি সেই বিরতিতে বসে অভিনেতাদের নাম কেটে নতুন অভিনেতা বসাচ্ছেন।

পাকিস্তান ক্রিকেটে এখন এক যা-তা রকমের রহস্যে ঘেরা; একমাত্র মিসির আলী বেঁচে থাকলে একটা সুরাহা করা যেতেও পারতো। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্ট খেলতে নামার আগে পাকিস্তান ক্রিকেটারদের কপালে এর পর ঠিক কী আছে তা জগতের সেরা জোতিষী একলা ঘরেও অনুমান করতে ভয় পাবে।

এর মধ্যেই থিয়েটারের পেছনের দরজা দিয়ে এক এক করে সব হাওয়া হয়ে যাচ্ছেন। সাতজন ক্রিকেটারকে টিকিট কেটে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রধান কোচের চাকরি শেষ। বোলিং কোচকে বলে দেওয়া হয়েছে, ‘আপনার পেছনে কেন টাকা ঢাললাম!’ এমন কি, এক নির্বাচকও হুট করে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে।

যারা এখনো অলৌকিক কারণে দল থেকে বাদ পড়েননি, তারা শেষ পর্যন্ত অক্ষত শরীরে দেশে ফিরতে পারবেন তো? নাকি অন্য কিছু ঘটবে?

ছলে-বলে-কৌশলে দলে এখন যারা টিকে আছেন, বা যাদের রাতারাতি হাজির করা হয়েছে, তাদের মধ্যে পাঁচজনের আবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তারা খুব গম্ভীর মুখে শেষ টেস্টের অনুশীলন করছেন; খুব সম্ভবত ইমাম-উল-হক দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে। আর বাকি দুনিয়া নখ কামড়াতে কামড়াতে অপেক্ষা করছে — ৯ সেপ্টেম্বরের পর নাটকের পরবর্তী দৃশ্যে আরো কী অভূতপূর্ব কান্ড ঘটে, তা দেখার জন্য।

বার্মিংহামে পাকিস্তান যদি এই ম্যাচেও হেরে যায়, তবে এই ছাঁটাই অভিযান ট্রেন্ড অনুযায়ী ছুটতে পারে। আরও চার-পাঁচজন ক্রিকেটার বাদ পড়বেন। নতুন তিন-চারজন কোচ আসবেন। আর হয়তো নতুন একটা ‘তদন্ত কমিটি’ বানানো হবে — আগের নির্বাচক কমিটি কেন আদৌ তৈরি করা হয়েছিল, সেই রহস্য উদঘাটন করার জন্য!

তবে পাকিস্তান যদি অলৌকিক কোনো কারণে জিতে যায়?

সেটা হতে পারে আরও বড় বিপদের কথা। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড, ওরফে পিসিবি, মহা আনন্দে ঠাস ঠাস করে কেঁপে উঠবে। তারা ভাববে, দল থেকে সবাইকে বের করে দেওয়ার এই বুদ্ধিটা তো দুর্দান্ত কাজ করেছে! এটাকে এখন বোর্ডের স্থায়ী নিয়ম বানিয়ে ফেলা যাক। প্রতি ম্যাচের আগে প্রায় পুরো দল বদলে ফেলা হবে।

আর ইংল্যান্ড যদি পাকিস্তান দলকে একদম ধুয়ে-মুছে হোয়াইটওয়াশ করে দেয়?

বাকি থাকা ক্রিকেটারদের হয়তো ফিসফিস করে পরামর্শ দেওয়া হবে, ‘তোমরা আপাতত দেশে ফিরো না। এয়ারপোর্টে ঘুরে বেড়াও। অনির্দিষ্টকালের জন্য!’

হলিউডের সেই ‘দ্য টার্মিনাল’ সিনেমার টম হ্যাঙ্কসের কথা মনে আছে? পাকিস্তান দলকেও হয়তো বার্মিংহাম বিমানবন্দরে সেরকম অসহায় মুখে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাবে। পার্থক্য শুধু একটা — টম হ্যাঙ্কস জানতেন না তাঁর পরের ফ্লাইট কখন। আর এই অভাগা ক্রিকেটাররা জানবেন না, তাদের পরের ম্যাচ আদৌ খেলা হবে নাকি তারা চিরতরে ইতিহাস হয়ে গেছেন!

তখন হয়তো শেষ ট্রাম্পকার্ড হিসেবে অতীতের দরজার কড়া নাড়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।

ওয়াসিম আকরাম আর শোয়েব আখতারের বাসায় হুট করে গিয়ে হাজির হবেন পিসিবির লোক, ‘ভাইজান, একটু উঠে দাঁড়ান। দয়া করে অবসর ও নতুন বলটা তুলে নিন। আমাদের বোলিংয়ের গতি ১৪০ পার করতে হবে।’

ব্যাটিং বিভাগের অবস্থাও হবে একই রকম। ইনজামাম-উল-হক, মোহাম্মদ ইউসুফ আর ইউনুস খানকেও হয়তো টেনে আনা হবে। উদ্দেশ্য একটাই — বর্তমান যুগের ব্যাটসম্যানদের দেখানো: কী করে ফাস্ট বোলারের সামনে টানা পাঁচ মিনিটের বেশি মাথা ঠাণ্ডা রেখে ক্রিজে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়!

পিসিবির অবস্থা এখন এক জেদি বাচ্চার মতো। হারতে শিখেনাই। কোনো খেলনা কাজ না করলেই সে রিসেট বোতামে চাপ দিতে থাকে।

তবে তারা খেয়ালই করছে না, লাগাতার চাপতে চাপতে বোতামটাই এখন ভেঙে যাওয়ার দশা হয়েছে। 

এখন খেলনায় ধুমধাম বাড়ি মারা ছাড়া কোনো গতি অবশিষ্ট নাই। কিন্তু ব্যাটারি সব মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে …

Related Articles

Latest Posts