আর্সেনালকে ঠেকাতে রাগবির ‘ট্যাকল প্যাড’ দিয়ে চেলসির অভিনব প্রস্তুতি

এমিরেটস স্টেডিয়ামে আগামী রোববার প্রিমিয়ার লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্বাগতিক আর্সেনালের মুখোমুখি হবে চেলসি। শিরোপাধারীদের বিপক্ষে এই লড়াইয়ের আগে একেবারেই ভিন্ন এক প্রস্তুতি পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন চেলসি কোচ জাবি আলোনসো।

আর্সেনালের দীর্ঘদেহী ও শক্তিশালী ডিফেন্ডারদের শারীরিক আক্রমণ, বিশেষ করে সেট-পিস (ফ্রি-কিক, কর্নার-কিক, থ্রো-ইন ইত্যাদি) পরিস্থিতিতে তাদেরকে সামলাতে অভিনব এই উপায় বেছে নিয়েছেন আলোনসো। প্রতিপক্ষের সম্ভাব্য কৌশলের জন্য প্রস্তুত হতে নিজের খেলোয়াড়দের রাগবি খেলার ‘ট্যাকল প্যাড’ হাতে থাকা কোচিং স্টাফদের মুখোমুখি করেছেন তিনি। মূলত রাগবিতে চোট এড়াতে এই ফোমযুক্ত সুরক্ষা সরঞ্জামটি বুকে ধরে রাখা হয় এবং অন্য খেলোয়াড়রা শরীরের পুরো শক্তি দিয়ে তাতে ধাক্কা দেওয়ার অনুশীলন করেন।

শুধু স্টাফরাই নন, কোবহামের অনুশীলন মাঠে দেখা গেছে, এই প্যাড হাতে দাঁড়িয়ে আছেন মিডফিল্ডার ভালেনতিন বার্কো, লেফট-ব্যাক পেপ চাভারিয়া ও ডিফেন্ডার জশ আচিমপং। আর সতীর্থরা ছুটে এসে তাদের সজোরে ধাক্কা দিচ্ছেন। আর্সেনালের প্রত্যাশিত কৌশল মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হতে এটি অস্বাভাবিক হলেও বেশ মানানসই একটি উপায় হতে পারে।

আর্সেনালের যে কৌশলের পাল্টা জবাব দিতে এই আয়োজন, সেটা আসলে কী? মূলত কোচ মিকেল আর্তেতা ও সেট-পিস কোচ নিকোলাস জোভের মিলে এটি তৈরি করেছেন, যা সেট-পিসে সফল হওয়ার একটি নিখুঁত ছক। আর গত কয়েক মৌসুমে কৌশলটি দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে গানাররা।

দীর্ঘ ২২ বছরের খরা কাটিয়ে গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জেতে আর্সেনাল। শুধু তাই নয়, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালেও উঠেছিল তারা। এই সাফল্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল সেট-পিসে কার্যকারিতা।

পেনাল্টি ছাড়াই গত মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগে সেট-পিস থেকে সর্বোচ্চ ২৫টি গোল করে আর্সেনাল। এর মধ্যে কেবল কর্নার থেকেই এসেছিল ১৯ গোল, যা প্রিমিয়ার লিগের কোনো মৌসুমে কর্নার থেকে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।

কীভাবে সেট-পিস থেকে এত গোল করে থাকে আর্সেনাল? তারা সাধারণত প্রতিপক্ষের পেনাল্টি অঞ্চলে ভিড় জমায়। ছয় গজের বক্সের ভেতরে তাদের একাধিক খেলোয়াড় দাঁড় হয়ে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের পথ আটকে দেন। পাশাপাশি ব্যবহার করা হয় ‘ডামি রানার’— অর্থাৎ যেসব খেলোয়াড়ের কাজই হলো বল পাওয়ার ভান করে দৌড় দেওয়া। এতে করে আর্সেনাল আসলে যেখানে আক্রমণ করতে চায়, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা সেখান থেকে দূরে সরে যান এবং দারুণ একটি ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়।

দূরের পোস্টের কাছাকাছি খেলোয়াড়দের ‘লুকিয়ে’ রাখাও গানারদের আরেক কৌশল। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা যখন বল আর নিজেদের ‘মার্ক’ করে রাখা খেলোয়াড়দের সামলাতে ব্যস্ত থাকেন, তখন হঠাৎ করেই আর্সেনালের কয়েকজন খেলোয়াড় ডি-বক্সের মাঝখান দিয়ে গোলমুখের দিকে দৌড় দেন।

এছাড়া, অনেক সময় ডি-বক্সে মূল জটলা থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করেন আর্সেনালের সবচেয়ে ভালো হেড করতে পারা খেলোয়াড়রা। তারা প্রতিপক্ষকে ‘ওয়ান-ভার্সেস-ওয়ান’ পরিস্থিতিতে ফেলেন। ফলে তাদের বল আক্রমণের জন্য পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা মেলে।

এসবের কোনোটিই এখন আর গোপন বিষয় নয়। তারপরও সেট-পিসে আর্সেনালের এমন আধিপত্য এই কারণেই সম্ভবত আরও বিস্ময়কর বলে মনে হয়।

আলোনসোও নিশ্চিতভাবেই জানেন তাকে কীসের মুখোমুখি হতে হবে। তার আগের অনেক কোচ ও ডিফেন্ডাররাও এটা জানতেন। তবে বেশিরভাগের জন্যই সমস্যাটি ছিল— আর্সেনালের পরিকল্পনা বুঝতে পারা নয় বরং তা থামানো।

আর্সেনালের বিপক্ষে সাম্প্রতিক রেকর্ড অবশ্য চেলসিকে খুব একটা স্বস্তি দিচ্ছে না। গানারদের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগে শেষ নয়টি ম্যাচের একটিতেও জিততে পারেনি তারা। আর ২০২১ সালের পর থেকে এমিরেটস স্টেডিয়ামে জয়ের মুখ দেখেনি দলটি। তাই এখন প্রশ্ন হলো— আলোনসোর চমকপ্রদ প্রস্তুতি পদ্ধতিটি কি শেষ পর্যন্ত কাজে লাগবে?

Related Articles

Latest Posts